ভারতীয় ক্রিকেটে অতীত হয়ে গেলেন যুবরাজ সিংহ। ভরা বিশ্বকাপের মধ্যেই পঞ্জাবতনয় তাঁর লড়াকু ক্রিকেট কেরিয়ারে ইতি টেনে দিলেন। পেলেন না ফেয়ারওয়েল ম্যাচও। স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপ খেলে তাঁর বর্ণময় ক্রিকেটজীবনে ইতি টেনে দেবেন। সেই ইচ্ছাও পূর্ণ হল না।

একসময়ের সেরা ম্যাচ উইনারের সঙ্গে কি সঠিক ব্যবহার করল দেশের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা? একটা ফেয়ারওয়েল ম্যাচও কি পেতে পারতেন না যুবি? তাঁর প্রথম অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। যার উত্তরে মহারাজ বলেন,‘‘যুবির ফেয়ারওয়েল ম্যাচ দরকার ছিল বলে আমি মনে করি না। আমি এই ধরনের ফেয়ারওয়েল ম্যাচে একেবারেই বিশ্বাসী নই।’’

অবসরের সময়ে সাংবাদিক বৈঠকে যুবরাজ বলেছিলেন, ‘‘আমি বোর্ডের কাউকেই বলিনি যে আমার ফেয়ারওয়েল ম্যাচ দরকার। আমাকে বলা হয়েছিল, ইয়ো ইয়ো টেস্টে ব্যর্থ হলে ফেয়ারওয়েল ম্যাচ দেওয়া হবে। আমি ওদের বলেছিলাম, ইয়ো ইয়ো টেস্টে পাশ করতে না পারলে আমি নিঃশব্দে সরে যাব,ফেয়ারওয়েল ম্যাচের দরকার পড়বে না। আমি ইয়ো ইয়ো টেস্টে পাশ করেছিলাম। বাকিটা তো আর আমার হাতে নেই।’’তবে কি বোর্ড প্রমাণ করতে চেয়েছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস নেই যুবরাজের? সে প্রশ্নের উত্তর আর কে দেবে?

সৌরভের নেতৃত্বে নাইরোবিতে অভিষেক ঘটেছিল বাঁ হাতি অলরাউন্ডারের। শুরুতেই কথা বলেছিল যুবির ব্যাট। তার পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৭ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আকাশ ছুঁয়েছিলেন যুবি। স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছ’বলে ছটা ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। স্যর গ্যারির ছয় ছক্কার ইতিহাস কাগজের পাতায় পড়েছে যুবির সমকালীন প্রজন্ম। যুবরাজের জন্যই এই প্রজন্ম চাক্ষুষ করেছে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

২০১১ বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রায়ই কাশতে দেখা যেত যুবরাজকে। কাশির দমক চাপতে পারতেন না। ওই শরীর নিয়েও বোলারকে ছুড়ে ফেলেছেন গ্যালারিতে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের মহানায়ক তিনি। ধোনির দলে যুবি ছিলেন বলেই বিশ্বকাপ জয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বিশ্বকাপের পরেই জানা যায়, যুবির শরীরে থাবা বসিয়েছে ক্যানসার। মারণরোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাইশ গজে ফিরে আসেন যুবরাজ। দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারে যা অর্জন করেছেন তিনি, তা কি কোনওদিন ম্লান হবে? সৌরভ বলেছেন, ‘‘একটা ফেয়ারওয়েল ম্যাচ না পেলে কিছুই হয় না। ক্রিকেট জীবনে যে কৃতিত্বগুলো অর্জন করেছিল যুবি, সেগুলো তো আর কেড়ে নেওয়া যাবে না। আমি ফেয়ারওয়েল ম্যাচের ধারণায় বিশ্বাসী নই। যুবরাজ দুরন্ত প্লেয়ার। একজন ম্যাচ উইনার। যুবরাজ যা অর্জন করেছে, তার জন্য ওর গর্ব হওয়া হওয়া উচিত।’’ পঞ্জাবতনয়ের জন্য দেশও গর্বিত।