সমুদ্র সৈকতে চাঁদনি রাত। পাশাপাশি বসে বিরাট কোহালি ও অনুষ্কা শর্মা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন অভিজ্ঞতা বিরুষ্কার জীবনে বিরল। তবে কয়েক দিন আগেই নেপিয়ারে বিখ্যাত মেরিন প্যারেডে এই সুযোগ পেয়ে যান তাঁরা। আর এ রকম রাত যে তাঁদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সেই অনুভূতিই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন প্রেমিক বিরাট। 

জীবনের এই আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে তিনি স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘নেপিয়ারে এক চাঁদনি রাতে আমরা মেরিন প্যারেডে একটা বেঞ্চে পাশাপাশি বসে একান্তে অনেকক্ষণ কথা বলি। এগুলো খুব সাধারণ ব্যাপার হলেও নিখাদ আনন্দ দেয় আমাদের। আসলে আমরা যে সব সময় সবার নজরে থাকি। একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ তেমন পাই না। মাঝে মধ্যে মনে হয়, কেউ আমাদের না চিনলেই ভাল হত। আমাদেরও তো ইচ্ছে করে অনেকের মতো দু’জনে মিলে একটু হাঁটতে বেরোই।’’

মাঠের বিরাট আর মাঠের বাইরের এই বিরাটের মধ্যে ফারাক অনেকটাই। মাঠে তিনি আগ্রাসী, লড়াকু। অথচ মাঠের বাইরে তিনি এমনই রোম্যান্টিক। নেপিয়ারের সেই চাঁদনি রাত যেমন মনে থাকবে বিরাটের, তেমনই তাঁর মনে খোদাই হয়ে থাকবে সম্প্রতি মেলবোর্নে রজার ফেডেরারের সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্তও। এই সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার কথাও শুনিয়েছেন বিরাট। বলেন, ‘‘এর আগে আরও দু-বার ওঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে। যখন বুঝলাম, আমাকে মনে রেখেছেন রজার ফেডেরার, তখন আমি অবাক হয়ে যাই। দারুণ অনুভূতি। রজারই বললেন, দু’বছর আগে সিডনিতে এক প্রদর্শনী ম্যাচের সময় আমাদের দেখা হয়েছিল। এটা শোনার পরে আমার মনের মধ্যে কী হচ্ছিল, বলে বোঝাতে পারব না। ছোটবেলা থেকে ওঁর খেলা দেখছি। উনি কিংবদন্তি। ভাল মানুষও।’’ 

আরও পড়ুন: ৩৩৪ ওয়ানডে খেলে ফেললেন ধোনি, সচিন-দ্রাবিড়ের পরেই তিনি 

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ জেতার পরের দিন অনুষ্কাকে নিয়ে মেলবোর্ন পার্কে ফেডেরারের সঙ্গে দেখা করতে যান বিরাট। সেখানে অনুষ্কার সঙ্গে তাঁর আলাপও করিয়ে দেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বিরাট বলেন, ‘‘উনি আমাকে একাধিক প্রশ্ন করেন। আমি শুধু খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে কিছু কথা বলি রজারকে। সময়টা বেশ কেটেছে আমাদের।’’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৪টি সেঞ্চুরির মালিককে নিয়ে অনেকেই বলছেন, সব নজির ভেঙে ফেলতে পারেন তিনি। কিন্তু বিরাট বলছেন, ‘‘দশ বছর আগেও ভাবিনি, এত দূর আসতে পারব। তবে রেকর্ডের কথা ভাবলে নিজের খেলার ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই ও সব নিয়ে ভাবি না।’’