সাল ১৯৫৮। ১৭ বছরের একটি ছেলে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর জোড়া গোলে বিশ্ব সেরার খেতাব পেয়েছিল ব্রাজিল। আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে নামও তুলেছিলেন। তিনি বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি পেলে।  

৬০ বছর পর সেই নজিরের পুনরাবৃত্তি হল ২০১৮-র বিশ্বকাপ ফাইনালে। পেলের পর এ বার সেই বিরল নজির স্পর্শ করলেন ১৯ বছরের কিলিয়ান এমবাপে। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের ৬৫ মিনিটে ফরাসি তরুণের পা থেকে বল গোলে ঢুকতেই ফিরে এল ’৫৮-র স্মৃতি। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়াম এ দিন সাক্ষী থাকল এমবাপের অনন্য কৃতিত্বের।

এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন এমবাপে। নিজে ৪ গোল করার পাশাপাশি আটটিরও বেশি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন পিএসজি-র এই তরুণ। ফাইনালে ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শটে দলের হয়ে চতুর্থ গোল করেন এমবাপে। নিজের এই কীর্তির সর্বোত্তম পুরস্কারও পেয়ে গিয়েছেন এই ‘ফ্রেঞ্চ কিড’। এমবাপের গোলের পরেই টুইট করেন স্বয়ং পেলে। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘‘দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার ক্লাবে তোমাকে স্বাগত এমবাপে। তোমাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আপ্লুত।’’

১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে পেলে।

তবে কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার তালিকায় এমবাপে তৃতীয় স্থানে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে, ১৯৮২ বিশ্বকাপে গিসেপে বার্হোমি এবং ২০১৮-য় কিলিয়ান এমবাপে। এই তিন কনিষ্ঠ ফুটবলার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেও গোল পাননি একমাত্র বার্হোমি-ই। তাই ১৯৮২-তে তাঁর দেশ ইতালি বিশ্ব জয় করলেও গোল আসেনি বার্হোমির পা থেকে।

পেলের টুইট:

আরও পড়ুন: গ্রিজম্যান-পোগবা-এমবাপে, ত্রিফলা-র গোলে ফের বিশ্বজয়ী ফ্রান্স

আরও পড়ুন:  থামল স্বপ্নের দৌড়, বিশ্বকাপে হেরেও মন জিতে ফিরল ক্রোয়েশিয়া

পেলে জোড়া গোল করে ৫-২ ব্যবধানে সুইডেনকে হারিয়ে ১৯৫৮-তে বিশ্বকাপ নিয়ে গিয়েছিলেন রিও-তে। পেলের পরে এমবাপে সেই কৃতিত্ব স্পর্শ করলেন। গ্রিজম্যান, পোগবা-র  পাশাপাশি নিজে গোল করে ক্রোয়েশিয়া-কে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০ বছর পর বিশ্বকাপ দেশে নিয়ে গেলেন এমবাপে। ২০১৮ বিশ্বকাপের  ‘সেরা উদীয়মান ফুটবলার’ হিসেবে নির্বাচিতও হলেন।