টানা পাঁচটি ম্যাচে শতরান করেছেন তিনি। তার মধ্যে সর্বশেষ শতরান এসেছে নিজের নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার। তাঁর নেতৃত্বে রঞ্জি ট্রফিতে ভাল জায়গায় বাংলা। ভাল ব্যাট করার সুবাদে জাতীয় দলেও ডাক এসেছে। কিন্তু তার পরেও খুশি নন অভিমন্যু ঈশ্বরন। বাংলার অধিনায়কের মন খারাপ। কারণ, পরিবারের খুব কাছের এক জনকে হারিয়েছেন তিনি।
উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দিনের খেলা শেষে অভিমন্যু বলেছেন, ‘‘আমি এই শতরান জ্যোতি মামাকে উৎসর্গ করতে চাই। তিনি পরিবারের খুব কাছের এক জন ছিলেন। এই ম্যাচেও ওঁর আসার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎই সোমবার মারা গিয়েছেন তিনি। তাই মনটা ভাল নেই।’’
পর পর শতরান করায় নিজের ব্যাটিং নিয়ে খুশি অভিমন্যু। কিন্তু ফলের চিন্তা না করে নিজের প্রস্তুতির দিকেই নজর দিতে চান তিনি। অভিমন্যু বলেছেন, ‘‘পর পর শতরান করলে তো ভালই লাগে। আমি ধারাবাহিক ভাবে খেলতে চাই। তার জন্য প্রস্তুতি আসল। ম্যাচে ভাল জায়গায় রয়েছি। প্রথম ইনিংসে বড় রান করতে পারলে ওরা চাপে পড়ে যাবে।’’ উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলা প্রথম দিনেই তুলেছে ৩ উইকেটে ২৬৯ রান। অভিমন্যু অপরাজিত আছেন ১৪১ রানে। অভিমন্যু ছাড়াও রান করেছেন সুদীপ ঘরামি। তিনি ৯০ রান করে আউট হন।
আরও পড়ুন:
বিজয় হজারে ট্রফির শেষ ম্যাচে শতরান করেছিলেন অভিমন্যু (১২২)। রাঁচীতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে সেই শতরান দিয়ে শুরু। এর পর বাংলাদেশে গিয়ে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে পর পর দু’টি ম্যাচে শতরান (১৪১ এবং ১৫৭) করেন তিনি। দেশে ফিরে বাংলার হয়ে রঞ্জি দলে যোগ দেন। নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৭০ রানের ইনিংস খেলেন অভিমন্যু। এ বার নিজের মাঠে দেহরাদূনে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধেও শতরান। অপরাজিত রয়েছেন ১৪১ রানে।
রঞ্জিতে চলতি ম্যাচ বাদ দিয়ে এখনও পর্যন্ত ৭৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন অভিমন্যু। উত্তরাখণ্ডে জন্ম হলেও তিনি খেলেন বাংলার হয়ে। বাংলার অধিনায়কও তিনি। এ বারের রঞ্জিতে যদিও মনোজ তিওয়ারি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ৭৯টি ম্যাচে অভিমন্যুর সংগ্রহ ৫৭৪৬ রান। ১৯টি শতরানও হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবারেরটি ধরলে ২০টি। লিস্ট-এ ক্রিকেটে ৭৮টি ম্যাচে ৩৩৭৬ রান করেছেন। রয়েছে সাতটি শতরান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও শতরান করেছেন একটি। আইপিএলে বরাবরই ব্রাত্য অভিমন্যু। নিলামে নাম দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দলই কেনেনি তাঁকে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে চলেছেন।