খেলা চলাকালীনই মেজাজ হারিয়েছিলেন হার্দিক পাণ্ড্য। খেলা শেষেও মেজাজ ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সহজ জয় পেলেও খেলাশেষে মাঠেই কুলদীপ যাদবকে কথা শোনালেন হার্দিক। একই কাজ করতে দেখা গেল অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকেও।
পাকিস্তানের ইনিংসের ১৮তম ওভারে বল করছিলেন হার্দিক। পাকিস্তানের তখন ৯ উইকেট পড়ে গিয়েছে। প্রথম বলেই শাহিন শাহ আফ্রিদির দস্তানায় বল লাগে। কিন্তু উইকেটরক্ষক ঈশান কিশন বল ধরতে পারেননি। পরের বলে আবার বড় শট মারার চেষ্টা করেন আফ্রিদি। লং অনে ছিলেন কুলদীপ। তিনি ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল তাঁর তালুতে লেগে ছিটকে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। ক্যাচ তো ধরতেই পারেননি কুলদীপ, উল্টে ছয় রান দেন তিনি।
পর পর দু’বলে ক্যাচ পড়ায় মেজাজ হারান হার্দিক। তিনি হাতের ইশারায় ঈশান ও কুলদীপকে দেখিয়ে কিছু একটা বলেন। বোঝা যাচ্ছিল, ক্যাচ ফস্কানোর জন্য দুই সতীর্থের উপরেই রাগ দেখান হার্দিক। সেই ওভারের শেষ বলে অবশ্য উসমান তারিককে আউট করে খেলা শেষ করে দেন তিনি।
খেলা শেষে যখন ক্রিকেটারেরা নিজেদের মধ্যে হাত মেলাচ্ছেন, তখনই দেখা যায়, কুলদীপের হাত ধরে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কিছু একটা বলছেন হার্দিক। বোঝা যাচ্ছিল, ক্যাচ ফস্কানোর জন্য বকুনি দিচ্ছিলেন তিনি। কুলদীপ চুপ করে শুনছিলেন। তখনই সেখানে দৌড়ে যান রিঙ্কু সিংহ। তিনি গিয়ে হার্দিককে সরিয়ে আনেন।
আরও পড়ুন:
সেখানেই ঘটনা শেষ হয়নি। পরে সূর্যকুমার কুলদীপকে দেখে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কিছু একটা বলেন। বোঝা যাচ্ছিল, তিনিও ক্যাচ ফস্কানোয় খুশি নন। কুলদীপের ক্যাচ বিশেষ কঠিন ছিল না। একটু সপ্রতিভ হলেই ধরতে পারতেন তিনি। কিন্তু পারেননি। এই ম্যাচে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে এই রকম ক্যাচ ফস্কালে তার প্রভাব দলের উপর পড়তে পারে। সেটাই হয়তো সতীর্থকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন হার্দিক ও সূর্য।
চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম ভারতের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পান কুলদীপ। খারাপ বল করেননি তিনি। ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। যদিও ফিল্ডিং খুব একটা ভাল করতে পারেননি। চার বাঁচানোর ক্ষেত্রেও তাঁর শ্লথগতি দেখা যাচ্ছিল। তার পর ক্যাচ ফস্কানোয় আরও রেগে যান হার্দিক ও সূর্য। মাঠেই কুলদীপকে বকুনি দেন তাঁরা।