টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বুধবার ইডেন গার্ডেন্সে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউ জ়িল্যান্ড। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত এডেন মার্করামেরা। মিচেল স্যান্টনারেরা যে দু’টি ম্যাচ হেরেছেন, তার একটি প্রোটিয়াদের কাছে। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে অতীত পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। কলকাতা ক্রিকেটপ্রেমীরাও জমজমাট লড়াই দেখার আশায়।
কলকাতার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে বুধবার। শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে অবশ্য গত রবিবারই শেষ হয়ে যেত। দুই পড়শি দেশের ব্যর্থতা শহরের ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ, উন্মাদনা বাড়িয়েছে নিশ্চিত। তাঁরা ভাল খেলা দেখতে চান। সিএবিও ভাল ক্রিকেটের উপযোগী ব্যবস্থা করেছে। ২২ গজ মূলত ব্যাটিং সহায়ক। শেষের দিকে স্পিনারেরা কিছুটা সাহায্য পেতে পারেন। ফলে বুধবার বাড়তি চ্যালেঞ্জ থাকবে দু’দলের বোলারদের জন্যই।
ব্যাটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার তেমন চিন্তা নেই। অধিনায়ক মার্করাম-সহ রায়ান রিকলটন, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস, জর্জ লিন্ডেরা রানের মধ্যে রয়েছেন। তবে ওপেনিং জুটি কিছুটা চিন্তা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরের। কুইন্টন ডি কক রান পাচ্ছেন না। ফলে প্রতি ম্যাচে শুরুতেই উইকেট হারাতে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। গত বারের রানার্সদের চাপের মুখে ভেঙে পড়ার অভ্যাস অজানা নয় নিউ জ়িল্যান্ডের। শুরুতে উইকেট তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রোটিয়াদের চাপে ফেলার চেষ্টা নিশ্চই করবেন কিউয়িরা।
রানের মধ্যে রয়েছেন নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটারেরাও। ওপেনিংয়ে টিম সেইফার্ট-টিম অ্যালেন জুটি তাদের বড় ভরসা। রাচিন রবীন্দ্রের ধারাবাহিকতার অভাব সমস্যায় ফেলতে পারে নিউ জ়িল্যান্ডকে। তবে গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, ডারেল মিচেলরা ফর্মে রয়েছেন। স্যান্টনারও দ্রুত রান তুলতে পারেন।
লড়াই মূলত বোলিং নিয়ে। যে দলের বোলারেরা যত বেশি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারবেন, সেই দল সুবিধা পাবে ইডেনের ২২ গজে। এ ক্ষেত্রে সামান্য হলেও এগিয়ে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। লিন্ডে, লুঙ্গি এনডিগি, কোয়েনা মাফাকাদের বলের বৈচিত্র ভাল। বার বার গতি, লেংথের বদল ঘটিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ধোকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাফল্যও পাচ্ছেন। মার্কো জানসেন, কেশব মহারাজের মতো বোলারেরাও দক্ষিণ আফ্রিকা দলে রয়েছেন। পাল্লা দিতে হলে লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, কোল ম্যাককনচি, ইশ সোধিদের বলে বৈচিত্র বাড়াতে হবে। না হলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইন আপকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা কঠিন।
আরও পড়ুন:
ব্যাট-বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি আরও একটি আকর্ষণ রয়েছে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে। ফিল্ডিং। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সেরা দু’দল মুখোমুখি হবে। ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে একটি ভাল ক্যাচ বা রান আউট। আলাদা নজর থাকবে ফিলিপসের দিকে। কিউয়ি ক্রিকেটার একাই দক্ষিণ আফ্রিকার ২০-২৫ রান কমিয়ে দিতে পারেন। স্যান্টনারের দলের বোলিং শক্তির ঘাটতি মিটিয়ে দিতে পারেন তিনি।