অ্যাশেজ় সিরিজ়ের পঞ্চম টেস্টের দ্বিতীয় দিন তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বেন স্টোকস এবং মার্নাস লাবুশেন। সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ২৯তম ওভারের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ককে হঠাৎ রেগে যেতে দেখা যায়। লাবুশেনের উপর কেন রেগে গিয়েছিলেন স্টোকস? রহস্য ফাঁস করে দিয়েছেন সিরিজ়ের অন্যতম ধারাভাষ্যকার স্টুয়ার্ট ব্রড।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ২৯তম ওভারে বল করেন স্টোকস। সেই ওভারে ট্রেভিস হেড তাঁকে পর পর দু’বলে চার মারেন। তার পরই লাবুশেনের সঙ্গে তর্কে জড়ান স্টোকস। ইংল্যান্ড অধিনায়ককে অজি ব্যাটারের মুখের সামনে আঙুল তুলেও কথা বলতে দেখা যায়। আসলে লাবুশেন নিজের পাতা ফাঁদেই পা দিয়ে মাথা গরম করে ফেলেন। তার ফলও ভুগতে হয় তাঁকে। স্টোকসের পরের ওভারেই ওয়াইড বলে ব্যাট চালিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন লাবুশেন। ৬৮ বলে ৪৮ রান করে আউট হন। নিশ্চিত অর্ধশতরান হাতছাড়া করেন তিনি।
ব্রড জানিয়েছেন, ঝগড়া হওয়ার মতো কোনও ঘটনাই ঘটেনি। স্টোকস কিছুটা ইচ্ছে করেই লাবুশেনকে রাগিয়ে দেয়। অজি ব্যাটারের মনঃসংযোগ নষ্ট করাই ছিল ইংল্যান্ড অধিনায়কের লক্ষ্য। তিনি সেই কাজে সফল হয়েছেন। ব্রড মঙ্গলবার খেলা শেষ হওয়ার পর বলেছেন, ‘‘সকালে স্টোকসের কাছে ঝগড়ার কারণ জানতে চেয়েছিলাম। সত্যিটা বলে আমি কারও বিশ্বাস ভাঙতে চাইছি না। প্রথমে লাবুশেনই বিরক্ত করতে শুরু করে পিচের নন স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে। স্টোকস বলগুলো করার পর ও নানা মন্তব্য করছিল। এই বলে চার রান হবে বা এই বলটা তো গড়িয়ে গেল— এমন সব মন্তব্য করছিল। ক্ষুব্ধ স্টোকস জবাবে ওকে বলে, ‘মাঠে দু’জন আম্পায়ার রয়েছেন। তৃতীয় কোনও আম্পায়ারের প্রয়োজন নেই।’ এটুকুই। আর কিছু হয়নি। স্টোকস আসলে লাবুশেনকে ওরই পাতা জালে ফাঁসিয়েছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাবুশেনকে তাতিয়ে দেয়। পরের ওভারে একটু ওয়াইড বল করে ওর বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। সেই ফাঁদেই শেষ পর্যন্ত পা দিয়েছে লাবুশেন।’’
আরও পড়ুন:
সোমবার স্টোকস-লাবুশেনের ঝগড়ার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে। তাই ব্রড আসল বিষয়টি সম্প্রচারকারী চ্যানেলে ফাঁস করেছেন।
সিডনি টেস্টে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করেছে ৩৮৪ রান। জবাবে তৃতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ৭ উইকেটে ৫১৮। ১৩৪ রানে এগিয়ে রয়েছেন স্টিভ স্মিথেরা। ১২৯ রান করে অপরাজিত রয়েছেন স্মিথ। ২২ গজে তাঁর সঙ্গী বিউ ওয়েবস্টার (৪২)।