বৈভব সূর্যবংশী মানেই রেকর্ড। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা এতটাই বাড়িয়ে দিয়েছে ১৫ বছরের ব্যাটার। শুক্রবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেও নজির গড়েছে রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার। ঘরোয়া ক্রিকেটার হিসাবে আইপিএলে একটি রেকর্ড গড়েছে সে। বৈভবের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করেছেন গ্রামের অনুশীলনের সঙ্গী আদিত্য ঠাকুর।
বিরাট কোহলিদের বিরুদ্ধে ২৮ বলে ৭৮ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বৈভব। শুক্রবারের ম্যাচে ১৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করে বৈভব। আইপিএলে নিজের তৃতীয় অর্ধশতরান করেছে বৈভব। এটাই আইপিএলে তার যুগ্ম দ্রুততম অর্ধশতরানের ইনিংস। আগের দু’টি অর্ধশতরান বৈভব করেছিল যথাক্রমে ১৫ এবং ১৭ বলে। অর্থাৎ এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ১৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করল বৈভব।
আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে দু’বার ১৫ বলে ৫০ রান করার নজির গড়ল বৈভব। এই কৃতিত্ব রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্কেরও। ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে বৈভবই প্রথম।
১৯ বলের কমে আইপিএলে অর্ধশতরান রয়েছে সাত জন ক্রিকেটারের। সকলেই দু’বার করে করেছেন। শুধু বৈভব তিন বার এই কৃতিত্ব দেখাল। বৈভব এবং ম্যাকগার্ক ছাড়া এই কৃতিত্ব রয়েছে সুনীল নারাইন (১৫ এবং ১৭ বল), নিকোলাস পুরান (১৫ এবং ১৭ বল), ঈশান কিশন (১৬ এবং ১৭ বল), ট্রেভিস হেড (দু’বার ১৬ বল) এবং কায়রন পোলার্ড (দু’বার ১৭ বল)। আইপিএলে ১৫ বা তার কম বলে অর্ধশতরান করার নজির রয়েছে আরও পাঁচ ক্রিকেটারের। তাঁরা হলেন যশস্বী জয়সওয়াল (১৩ বল), লোকেশ রাহুল (১৪ বল), প্যাট কামিন্স (১৪ বল), রোমারিও শেফার্ড (১৪ বল) এবং ইউসুফ পাঠান (১৫ বল)।
বৈভবের আগ্রাসী ব্যাটিং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিস্ময়ের হলেও অবাক নন আদিত্য। ২০ বছরের ক্রিকেটার থাকেন বিহারে বৈভবের পাশের গ্রামে। তাঁর লক্ষ্য চলতি মরসুমে বিহারের অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জায়গা করে নেওয়া। গত পাঁচ বছর ধরে বৈভবের অনুশীলনের অন্যতম সঙ্গী আদিত্য। দু’জনের সম্পর্ক দাদা-ভাইয়ের মতো। বৈভবের সব খেলা দেখা আদিত্য বলেছে, ‘‘বৈভবের ইনিংস দেখে আমি একটুও অবাক হই না। ও ব্যাট হাতে নামলেই মনে হয় দেওয়ালি। ওর শটগুলো আমায় বিস্মিত করে না। পাঁচ বছর ধরে একসঙ্গে অনুশীলন করি। এ সব দেখে আমি অভ্যস্ত। প্রথম বল থেতেই মারতে পারে বৈভব।’’
আরও পড়ুন:
বৈভবের আইপিএলের প্রস্তুতি নিয়ে আদিত্য বলেছেন, ‘‘আইপিএলের আগে প্রতি দিন সকালে ৩ ঘণ্টা এবং বিকালে ৩ ঘণ্টা করে অনুশীলন করত বৈভব। গত বার আইপিএলের আগে অনুশীলনর সময় একটা বল ওর হেলমেটে লেগেছিল। বৈভব পিচের উপর পড়ে যায়। নেটের পিছনে দাঁড়িয়ে অনুশীলন দেখছিলেন ওর বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আমিও ছুটে যাই বৈভবের কাছে। একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। বৈভব নিজেই উঠে দাঁড়ায়। ওর মুখে কিন্তু কোনও ভয়ের ছাপ ছিল না। তা-ও ওকে পাটনায় একটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথায় লাগলে তো ঝুঁকি নেওয়া যায় না। বৈভবের এমআরআই হয়। সমস্যা কিছু ছিল না। পরীক্ষা শেষ হতেই চিকিৎসককে বৈভবের প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘স্যর কাল থেকে আবার ক্রিকেট খেলতে পারব তো?’ বৈভব এমনই ডাকাবুকো। কোনও ভয় নেই। সকলের চেয়ে আলাদা।’’ সাহসের জন্যই বৈভব জসপ্রীত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট, জস হেজ়লউডদের মতো বোলারদের বিরুদ্ধেও সাফল্য পাচ্ছে বলে মনে করেন আদিত্য।