Advertisement
E-Paper

নির্বাসন থেকে স্পনসরশিপে ধাক্কা! বিশ্বকাপ বয়কট করলে কী কী ক্ষতি হবে বাংলাদেশের, দেশ ছাড়তে পারেন ক্রিকেটারেরা

বাংলাদেশের দাবি, তারা না খেললে ২০ কোটি দর্শক হারাবে বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ছবিটাই বদলে যেতে পারে। দেশ ছাড়তে পারেন বাংলাদেশি ক্রিকেটারেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৯
cricket

বাংলাদেশের কয়েক জন ক্রিকেটার। —ফাইল চিত্র।

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না জানিয়ে বাংলাদেশ বলেছে, ২০ কোটি দর্শক হারাবে বিশ্বকাপ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ছবিটাই বদলে যেতে পারে। দেশ ছাড়তে পারেন বাংলাদেশি ক্রিকেটারেরা। ক্রিকেট মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট কী কী পরিণতির সম্মুখীন হতে পারে

১. আর্থিক বিপর্যয় এবং রাজস্ব ক্ষতি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দাবি করেছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাদের বর্তমান রাজস্বের অংশ সুরক্ষিত আছে। অর্থাৎ, আইসিসির থেকে তারা যে লভ্যাংশ পায়, তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত পাবে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে পরোক্ষ ভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে তারা।

• পুরস্কারের অর্থ হারানো: না খেলার অর্থ হল অংশগ্রহণের ফি এবং সম্ভাব্য পুরস্কার অর্থ না পাওয়া। এই টাকা ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতির জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তার অন্যতম উৎস।

• স্পনসরশিপে ধাক্কা: এসজি এবং এসএস-এর মতো ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। বিশ্বকাপ বয়কটের ফলে আন্তর্জাতিক স্পনসরদের একটি বড় অংশ চলে যেতে পারে। কারণ, তারা বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে তাদের দল বা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেয়।

• ক্রিকেটারদের বিদ্রোহের সম্ভাবনা: বিসিবি জানিয়েছে বিশ্বকাপে না খেলার জন্য ক্রিকেটারেরা যে ম্যাচ পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হবেন, তার দায় তারা নেবে না। অর্থাৎ, ক্রিকেটারদের কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্রিকেটারেরাই। এই নিয়ে তারা নিজেদের অসন্তোষের কথা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন।

২. ভবিষ্যৎ নির্বাসনের সম্ভাবনা

আইসিসি ‘অংশগ্রহণ চুক্তি’ বা ‘পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’-এর ভিত্তিতে কাজ করে। বিভিন্ন দেশের বোর্ডের সঙ্গে এই চুক্তি অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে। এই চুক্তি ভঙ্গ করা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ। আইসিসি কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে।

• সাময়িক বহিষ্কার: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-সহ ভবিষ্যতের আইসিসি প্রতিযোগিতাগুলি থেকে বাংলাদেশকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কৃত করা হতে পারে। র‌্যাঙ্কিং পয়েন্ট আইসিসি কেটে নিলে এমনিতেই বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ হারাবে।

• প্রভাব হারানো: ভবিষ্যৎ ক্রীড়াসূচি বা ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম নিয়ে আইসিসির বৈঠকে আলোচনার সময় বাংলাদেশ তার গুরুত্ব হারাবে। এর ফলে বড় দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করা বাংলাদেশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।

• বিকল্প দল: আইসিসি ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য স্কটল্যান্ডকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসেবে রেখেছে। একবার বিকল্প দল চূড়ান্ত হয়ে গেলে বাংলাদেশের ফিরে আসার আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।

৩. ক্রিকেটারদের কেরিয়ারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য বিশ্বকাপ নিজেদের মেলে ধরার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। বয়কটের কারণে তারা আইপিএল, বিগ ব্যাশ বা এসএ২০-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলিতে খেলার সুযোগ হারাবে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটারেরা অন্য দেশে চলে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারে।

৪. কূটনৈতিক ও ক্রীড়ামঞ্চে একঘরে হওয়া

ভারতকে আইসিসি নিরাপদ ঘোষণা করার পরেও নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট করা একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। অন্য দেশগুলির কাছে এই বার্তা যাবে, বাংলাদেশ খেলাধুলার চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোও ঢাকা সফরের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে পারে।

BCB ICC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy