অবশেষে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজ়িল। সোমবার জাপানের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২-১ গোলে জিতল তারা। শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে শেষ ষোলোয় তুললেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। পিছিয়ে পড়েও জিতল ব্রাজ়িল। তবে গোটা ম্যাচে যা খেলেছে তার জন্য প্রশংসা প্রাপ্য জাপানের। মন জয় করা ফুটবল খেলেছে তারা।
এই ম্যাচের পর মোটেও খুশি হবে না ব্রাজ়িল। ম্যাচটি জিতেছে ঠিকই। কিন্তু কঠিন দলের সামনে পড়লে যে ব্রাজ়িলের সমস্যা হতে পারে সেটা এই ম্যাচে বুঝিয়ে দিয়েছে জাপান। সূর্যোদয়ের দেশ আরও এক বার শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বিদায় নিল। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে এ ভাবেই শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে তারা বিদায় নিয়েছিল।
মার্তিনেল্লির গোলে কমল চাপ
ডান দিকে দানিলো বল পেয়ে পাস দিয়েছিলেন এনদ্রিককে। তিনি পাস দেন ব্রুনো গিমারায়েসকে। গিমারায়েসের নিখুঁত পাস যায় মার্তিনেল্লির কাছে। তিনি বল জালে রাখতে ভুল করেননি। তবে ব্রাজ়িলকে এই গোল পেতে হয়েছে অনেক কষ্ট করে। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই দাপট দেখিয়েছে ব্রাজ়িল। গোটা খেলাটাই হয়েছে জাপানের অর্ধে। কিন্তু কিছুতেই গোলের মুখ খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। ৫৩ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের ক্রস থেকে কাসেমিরোর হেড অল্পের জন্য গোলের ভিতরে ঢোকেনি। গোললাইন থেকে বাঁচিয়ে দেন জাপানের এক ডিফেন্ডার। এর পরে সেই হেড থেকেই গোল করেন কাসেমিরো। ব্রাজ়িলের গোলমুখ খুঁজে বার করতে না পারা আগামী দিনে সমস্যার কারণ হতে পারে।
ব্রাজ়িলের ফরোয়ার্ড লাইনে সমস্যা
কোচ কার্লো আনচেলোত্তির হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে। তবু প্রতি ম্যাচে তিনি কেন যে রায়ানকে নামান তিনিই জানেন। এ দিন বোঝাই যাচ্ছিল না রায়ানের কাজ। দু’-একটি পাস এবং এক বার গোলে হেড করা ছাড়া এই ম্যাচে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। কেন শুরু থেকে এনদ্রিক বা মার্তিনেল্লিকে খেলানো হবে না? কেন বেঞ্চে বসে থাকবেন লুই এনরিকের মতো ফুটবলার? এখন আর গোলের জন্য নেমারের প্রতি ভরসা করলে চলবে না। একাধিক বিকল্প হাতের কাছে রাখতে হবে। ব্রাজ়িলকে গোল পেতে হলে প্রথম থেকে মার্তিনেল্লিকে খেলানো দরকার।
ভিনিসিয়াসের বিকল্প চাই
ব্রাজ়িলকে প্রথম তিন ম্যাচে কার্যত একার হাতে উৎরে দিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। নিজে তো গোল করেইছিলেন। দলকে দিয়েও গোল করিয়েছিলেন। ফলে ব্রাজ়িলের দুর্বলতম জায়গাটাই ধরে নিয়েছিল জাপান। তারা ঠিক করেছিল, ভিনিসিয়াসকে কোনও ভাবেই খেলতে দেওয়া যাবে না। ফলে ভিনিসিয়াস বল পেলেই তাঁকে ঘিরে ফেলছিলেন জাপানের অন্তত দু’জন ফুটবলার। যেনতেনপ্রকারে তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। ভিনিসিয়াস বল পায়ে রেখে ভেতরে ঢুকতে চেয়েও পারছিলেন না। তাঁর সামনে পায়ের জঙ্গল তৈরি করে ফেলছিল জাপান। ফলে ভিনিসিয়াস ভেতরেও ঢুকতে পারছিলেন না। শটও নিতে পারছিলেন না। এই ফর্মুলা ব্রাজ়িলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ কাজে লাগাতে পারে। ভিনিসিয়াস কোনও ম্যাচে আটকে গেলে গোলের দরজা কে খুলবেন, তা নিয়ে ভাবতে হতে পারে ব্রাজ়িলকে। ফ্রান্স ম্যাচে যে রকম কিলিয়ান এমবাপে আটকে যাওয়ার দিনে গোল করেছিলেন উসমান দেম্বেলে। ব্রাজ়িলেও একজন সে রকম ফুটবলার দরকার।
জাপানের লড়াকু ফুটবল
র্যাঙ্কিংয়ে না হলেও, এশিয়ার ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী দেশ জাপানই। গত কয়েক বছরে জাপানের ফুটবল অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছে। সোমবার ব্রাজ়িলকে গোটা ম্যাচে ঘোল খাইয়ে জাপান বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে তারা আরও চমক দেবে। গত বছর প্রদর্শনী ম্যাচে ব্রাজ়িলকে হারিয়েছিল জাপান। তা-ও আবার ০-২ পিছিয়ে পড়ে। এ দিনও প্রথমার্ধ শেষের পর মনে হয়েছিল হেরে যাবে ব্রাজ়িল। কী অসাধারণ ফুটবলটাই না খেললেন রিৎসু দোয়ান, দাইজ়েন মায়েদা, আয়সে উয়েদারা। শুরু থেকে জাপানের লক্ষ্য ছিল একটাই। বল পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ো ব্রাজ়িলের অর্ধে। জাপানের প্রধান অস্ত্র তাদের গতি। সেটাই কাজে লাগায় তারা। জাপানের আক্রমণের ঝড়ে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল ব্রাজ়িল। কোনও ফুটবলারই গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছিলেন না। এমনিতেই ব্রাজ়িলের এই দলে বেশি বয়স্ক ফুটবলারের সংখ্যা বেশি। তাঁদের আরও সমস্যা হচ্ছিল। সেটাই কাজে লাগিয়ে গোল করে জাপান। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে কাইশু সানো প্রায় ৪০ গজ দৌড়ে গোলটা যখন করলেন, তাঁর আগে চেষ্টা করেও তাঁকে বাধা দিতে পারেননি কাসেমিরো। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে জাপান হঠাৎই গুটিয়ে গেল। ব্রাজ়িলের আক্রমণের মুখে তারা নিজেদের অর্ধে আটকে থেকে সারা ক্ষণ রক্ষণই করে গেল। সেই সময় গতি বজায় রেখে তারা আরও একটি গোল করতে পারলে এই ম্যাচ ব্রাজ়িলের পক্ষে জেতা অনেক কঠিন হত।
আরও পড়ুন:
কাসেমিরোর খারাপ দিন
ব্রাজ়িল সমতা ফিরিয়েছিল কাসেমিরোর গোলে। কিন্তু ৩৪ বছরের এই মিডফিল্ডারের মধ্যে আগের তেজ যে আর নেই, এটা খেলা দেখে বোঝা গিয়েছে। মরক্কো ম্যাচেও কাসেমিরো পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন। এ দিনও তাঁকে প্রায় খুঁজে পাওয়া গেল না। ফলে মাঝমাঠে ব্রাজ়িলের খেলাও চোখে পড়ছিল না। সাধারণত মাঝমাঠ থেকে কাসেমিরোও ব্রাজ়িলের খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন। এ দিন সেটা হয়নি। ফলে পুরো চাপটাই গিয়ে পড়ছিল গিমারায়েসের উপর। লুকাস পাকুয়েতাও চোট পাওয়ায় ব্রাজ়িলের কাজ কঠিন হয়ে যায়। আনচেলোত্তির উচিত ছিল অনেক আগেই ফাবিনহোকে নামানো। তিনি লিভারপুলের মাঝমাঠে এক সময় স্তম্ভ ছিলেন। এ দিন এক দম শেষ মুহূর্তে তাঁকে নামানো হয়। আনচেলোত্তিকে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভাবতে হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
- ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
- বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
-
১৬:১৬
বিশ্বকাপের মাঝে মানবিক নেমার, ভেনেজ়ুয়েলায় ভূমিকম্পে দুর্গতদের সাহায্যে ২.৫ কোটি টাকা দান ব্রাজ়িলের তারকার -
১৫:৫৩
জাপানের বিরুদ্ধে কি শুরু থেকে খেলবেন নেমার? জবাব ব্রাজ়িলের কোচের, এই ম্যাচকেই ‘ফাইনাল’ ভেবে নামছেন আনচেলোত্তি -
১৩:৩১
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ধর্ষণের অভিযোগ অধিনায়কের বিরুদ্ধে! পেতে পারেন কড়া শাস্তি, বিপাকে কাবো ভার্দে -
বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে প্রথম প্রতিক্রিয়া মেসির! কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে নামার আগে সতীর্থদের বার্তা লিয়োর
-
বিশ্বকাপে নজির গড়েই চলেছেন মেসি! টানা সাত ম্যাচে গোলের কীর্তি ছাড়াও আর একটি বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ লিয়োর