সুপার কাপ থেকে বিদায় নিয়েই মোহনবাগানের দল পরিচালন সমিতির উপরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন হোসে মোলিনা। মোহনবাগানের কোচ সাফ জানিয়েছিলেন, দল নির্বাচনে তাঁর কোনও হাত নেই। যা করার ম্যানেজমেন্টই করে। এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ দল পরিচালন সমিতি। মোলিনা আর কোচ থাকবেন কি না তাই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এ দিকে, শনিবার গোয়া থেকে একই বিমানে কলকাতা ফিরেছেন ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের ফুটবলারেরা।
সুপার কাপের নকআউট পর্বের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে হতে পারে। তাই দুই প্রধানই কলকাতায় ফিরে এসেছে। মোলিনার মন্তব্যের পরেই তাঁর সঙ্গে দল পরিচালন সমিতির সম্পর্ক খারাপ হয়ে গিয়েছে। দল পরিচালন সমিতির কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, গত মরসুমে মোলিনা এই দল নিয়েই যখন আইএসএলের লিগ-শিল্ড এবং কাপ জিতলেন বা কিছু দিন আগে যখন আইএফএ শিল্ড জিতলেন, তখন তো তা হলে প্রশংসা পাওয়ার কথা ছিল ম্যানেজমেন্টের। কিন্তু তিনি তো তখন সেই প্রশংসা করেননি। নিজেই সব কৃতিত্ব নিয়েছেন। ম্যানেজমেন্টও মোলিনাকেই যাবতীয় কৃতিত্ব দিচ্ছে। তা হলে এখন ম্যানেজমেন্টের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে কেন?
দল নির্বাচনে কোচের কোনও ভূমিকা নেই, এই কথাটাই বিশ্বাস করতে চাইছেন না অনেকে। ভারত তো বটেই, বিশ্বের সর্বত্রই কোচের পছন্দ অনুসারে ফুটবলার কেনা হয়। শনিবারই মোলিনা গোয়ায় মোহনবাগানের কোচ হিসাবে শেষ সাংবাদিক বৈঠক করে ফেললেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
কলকাতা ফেরার আগে গোয়া বিমানবন্দরে মোহনবাগান ফুটবলারেরা একসঙ্গে বসে গল্পগুজব করছিলেন। সেখানে কোথাও দেখা যায়নি মোলিনাকে। তিনি একপ্রান্তে বসেছিলেন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। কলকাতায় ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মলদ্বীপে ছুটি কাটাতে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
মোলিনাকে নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেই সূত্রের খবর। আপাতত মোহনবাগানের সামনে কোনও ম্যাচ নেই। তাই ফুটবলারদের অনির্দিষ্ট কালের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। আইএসএলের বিড জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৫ নভেম্বর। কারা আইএসএল আয়োজন করবে, কবে প্রতিযোগিতা শুরু হবে তা জানতে আরও কিছু দিন লাগবে। সেটা জানা গেলে তবেই মোলিনাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে আইএসএল হলে মোহনবাগানের কোচ হিসাবে মোলিনার না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আপাতত কোচ হিসাবে গোয়া, মুম্বইয়ের প্রাক্তনী সের্জিয়ো লোবেরার নাম ভাসছে। এ ছাড়া মুম্বইয়ের প্রাক্তন কোচ ডেস বাকিংহামও চর্চায় রয়েছেন।