ফুটবলের ট্রফি জেতা এই মুহূর্তে যেন কপালেই নেই ইস্টবেঙ্গলের। চব্বিশ ঘণ্টা আগেই আই লিগে লজ্জার হারের সামনে পড়তে হয়েছিল লাল-হলুদের বড়দের। রবিবার লজ্জার হার হয়তো হয়নি। কিন্তু ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণের ফাইনালে ইউনাইটেডের কাছে ১-২ হেরে ইস্টবেঙ্গলের ছোটরাও চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি হাতে তুলতে পারল না।
টিভি কভারেজের জন্য বারাসত স্টেডিয়ামে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল করা হয়। তাপ প্রবাহে গ্যালারি প্রায় ফাঁকা ছিল। জনাকয়েক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক এসেছিলেন আশায়—প্রিয় ক্লাবের ছোটরা ক্লাবের মান রাখবেন। দুর্ভাগ্যবশত সেটাও হল না। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি নষ্ট করেন ইউনাইটেডের জগন্নাথ ওঁরাও। যদিও তার কিছুক্ষণ পরেই আজহারউদ্দিন মল্লিকের গোলে এগোয় ইউনাইটেডই। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবঙ্গলের অরূপ রায় ১-১ করলেও আবার সেই আজহারউদ্দিনের গোলেই বাজিমাত ইউনাইটেডের।
গ্যালারিতে দর্শক কম হলেও উন্মাদনার কমতি অবশ্য ছিল না। গ্যালারিতে বসে থাকা দুই গোষ্ঠীর গুটিকয়েক সমর্থকের মধ্যেই সমানে বাগযুদ্ধ চলতে থাকে। কথা কাটাকাটি থেকে এক-এক সময় হাতাহাতির উপক্রম। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলালেও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের অভিযোগ, ‘‘ইউনাইটেড বয়স ভাঁড়িয়েছে। ম্যাচ বয়কট করা হোক।’’ যদিও তাতে না ইস্টবেঙ্গল, না আইএফএ—কোনও কর্তারাই কান দেননি।
বারাসতের ফ্লাডলাইটে তখন এক কোণে পড়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড। দেখে কে বলবে, এক সময় এই ট্রফি কত স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী। তবে এ দিন জয়ী দল পেল পাঁচ লাখ টাকা। রানার্স তিন লাখ।
ম্যাচ হেরেই এ দিন বারাসতের অ্যাস্ট্রোটার্ফকেই দোষী সাব্যস্ত করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ তরুণ দে। ‘‘আমার দল অ্যাস্ট্রোটার্ফে খেলে অভ্যস্ত। ম্যাচের কিছু দিন আগেই জানতে পারলাম টিভি কভারেজের জন্য বারাসতে খেলা হবে। ইউনাইটেডের অনেক প্লেয়ার এ বার আই লিগ দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলেছে। আমার দলের সেখানে অভিজ্ঞতা কম।’’ যদিও এক আইএফএ কর্তা পাল্টা বলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গলে ফ্লাডলাইট নেই। তাই এখানেই করতে হল।’’
সাত গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা আজহারউদ্দিন মল্লিক বললেন, ‘‘ফাইনালে আমার গোলের থেকেও দলের জেতায় আমি খুশি।’’ মোহনবাগান ভক্ত আজহারউদ্দিন আবার যোগ করেন, ‘‘মোহনবাগান আমার প্রিয় ক্লাব। ভবিষ্যতে ওই ক্লাবে খেলতে চাই। ওরা আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হবেই।’’ শিল্ড জেতা ছাড়াও কয়েক ঘণ্টা পরে অন্য স্বপ্নটাও পূর্ণ হয়ে গেল আজহারউদ্দিনের।