Advertisement
E-Paper

কেয়ার্নসই ম্যাচ গড়াপেটার পাণ্ডা, বলছেন ভিনসেন্টের প্রাক্তন স্ত্রী

ম্যাচ গড়াপেটার ভূত তাড়া করেই চলেছে ক্রিকেটকে। এ বার কাঠগড়ায় নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ক্রিস কেয়ার্নস। কেয়ার্নসই ছিলেন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের রিং লিডার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন লু ভিনসেন্টের প্রাক্তণ স্ত্রী। গত অক্টোবরে যিনি আইসিসি-র দুর্নীতি দমন বিভাগকে (এসিইউ) দশ পাতার লিখিত সাক্ষ্য দিয়ে এই অভিযোগ করেছেন। এই সাক্ষ্যই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট দুনিয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে ভিনসেন্ট ও ব্রেন্ডন ম্যাকালাম যে ‘প্লেয়ার এক্স’-এর কথা উল্লেখ করেছেন তাঁদের বিবৃতিতে, তিনি কি তা হলে কেয়ার্নসই?

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০১৪ ০২:৫১

ম্যাচ গড়াপেটার ভূত তাড়া করেই চলেছে ক্রিকেটকে। এ বার কাঠগড়ায় নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ক্রিস কেয়ার্নস।

কেয়ার্নসই ছিলেন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের রিং লিডার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন লু ভিনসেন্টের প্রাক্তণ স্ত্রী। গত অক্টোবরে যিনি আইসিসি-র দুর্নীতি দমন বিভাগকে (এসিইউ) দশ পাতার লিখিত সাক্ষ্য দিয়ে এই অভিযোগ করেছেন। এই সাক্ষ্যই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট দুনিয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে ভিনসেন্ট ও ব্রেন্ডন ম্যাকালাম যে ‘প্লেয়ার এক্স’-এর কথা উল্লেখ করেছেন তাঁদের বিবৃতিতে, তিনি কি তা হলে কেয়ার্নসই? নিউজিল্যান্ডের এই প্রাক্তন টেস্ট তারকা অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন এই অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, “সব কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এ ভাবে আমার বদনাম করা ঠিক নয়।”

নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন টেস্ট ওপেনার লু ভিনসেন্ট গত সপ্তাহে ৪২ পাতার বিবৃতি দিয়েছেন আইসিসি-র তদন্তকারী অফিসারদের। তাতে যেমন এক বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছিল, কিউয়ি অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাকালামও তাঁর তিন পাতার বিবৃতিতে তেমনই এক বিখ্যাত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ বার ভিনসেন্টের স্ত্রী এলি রাইলির অভিযোগের পর ক্রিকেটমহলে ধারণাটা দাঁড়াচ্ছে যে-- দু’জনেই একই ব্যক্তির কথা বলেছেন। এবং সেই ব্যক্তি সম্ভবত ক্রিস কেয়ার্নসই।

Advertisement

রাইলির অভিযোগ, ২০০৮-এর ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) ফিক্সিং শুরু হয় এবং ভিনসেন্ট তাঁকে একবার বলেছিলেন, “ক্রিস প্রতি ম্যাচের জন্য আমাকে ৫০ হাজার ডলার করে দেবে বলেছে।” তার পরেই ভিনসেন্টের কাছে এক ব্যক্তি আসেন নগদ ভর্তি সুটকেস নিয়ে। কিন্তু দু’সপ্তাহ পর ঘটনা পুরো ‘অন্য দিকে’ ঘুরে যায়।

‘অন্য দিকে’ মানে?

বিবৃতিতে রাইলি বলেছেন, “লু আমাকে এক দিন ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করে দিল। বলল, ওর ভুলের জন্য ক্রিস কেয়ার্নসের আড়াই লাখ ডলার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। আমি ওকে বারবার বলেছিলাম, এ সবের সঙ্গে নিজেকে জড়িও না। কিন্তু লু দুশ্চিন্তা করতে বারণ করে বলেছিল, ‘আমরা সবাই এর মধ্যে আছি’।” ২০০৮-এ ম্যাঞ্চেস্টারে এক নৈশ পার্টিতে একদিন দেখা হলে রাইলিকে নাকি কেয়ার্নস বলেন, “সব ঠিক আছে। সবাই ফিক্সিং করে। কারও ধরা পড়ার ভয় নেই।” রাইলি জানান, “আমি ওকে বলি, এত ক্রিকেটারকে জড়াচ্ছ, পুরো দলকেই জড়িয়ে ফেলছ তুমি। তোমার খিদে ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। একদিন ফিক্সিংয়ের খবর কেন ফাঁস হবে না, কেনই বা তুমি ধরা পড়বে না, আমি বুঝতে পারছি না।” তাঁর কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রাইলি। বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, “ক্রিস বলেছিল, আমি ঠিকই বলেছি। কিন্তু আমার উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ সব কিছু ওর নিয়ন্ত্রণে আছে। ও তো আমার কথা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিল।”

২০১২-য় কেয়ার্নসের বিরুদ্ধে প্রায় একই অভিযোগ তুলেছিলেন আইপিএলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ললিত মোদী। তাঁর বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় জিতে ৯০ হাজার পাউন্ডের ক্ষতিপূরণও আদায় করেন কেয়ার্নস। রাইলির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর তিনি রীতিমতো লিখিত বিবৃতি দিয়ে বলেন, “এখন পুলিশের কাছে যত দ্রুত সম্ভব নিজের বক্তব্য পেশ করা শেষ করতে হবে আমাকে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ব্রেন্ডন ও লু, এমন ধারণা করছেন যাঁরা, তাঁদের বলি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার ব্যাপারে আমি বদ্ধপরিকর। আইসিসি এখনও আমার বক্তব্যই শোনেনি। এখনও অনেক কিছু বাকি আছে।”

নিউজিল্যান্ডের একটি সংবাদপত্র ‘হেরাল্ড’ জানাচ্ছে, ব্রেন্ডন ম্যাকালাম এসিইউ-কে বলেছেন, এক প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার তাঁকে ফিক্সিং থেকে পাওয়া টাকা দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনায় ঢালার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার মানেই আন্দাজ করা যায় ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে তিনি কী বিশাল অঙ্কের অর্থ রোজগার করতে পারতেন। কিন্তু সেই পথে পা বাড়াননি বলে জানান ম্যাকালাম। ম্যাকালাম এই ক্রিকেটারকে তাঁর ‘হিরো’ বলে মনে করতেন বলে জানিয়েছেন। তিনিই ক্রিস কেয়ার্নস কি না, সেই নিয়েই এখন শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা।

cairns new zealands
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy