উত্তর দিনাজপুরে গত দেড় মাসে দফায় দফায় অভিযান চালিয়েও সদস্য সংগ্রহে শীর্ষ নেতৃত্বের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যে পৌঁছতে পারল না জেলা বিজেপি। জেলার ন’টি ব্লকের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ৪ লক্ষ ১৭ হাজার বেঁধে দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় নেতৃত্বকে। এটা গত ৬ জুলাইয়ের নির্দেশ। এরপর ৯ অগস্ট বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মালদহে বিজেপির জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে যে কোনও উপায়ে ওই লক্ষ্য পূরণের নির্দেশ দেন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার জেলায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান শেষ করেছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। অথচ রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী জেলায় বাসিন্দাদের দলীয় সদস্য করানোর লক্ষ্য পূরণই করতে পারলেন না বিজেপির জেলা নেতৃত্ব।

দলের জেলা সভাপতি নির্মল দাম বলেন, ‘‘আমাদের হিসেব অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলার ন’টি ব্লকে প্রায় চার লক্ষ বাসিন্দাদের দলীয় সদস্য করানো সম্ভব হয়েছে। দলের লক্ষ্য অনুযায়ী, জেলার আরও ১৭ হাজার বাসিন্দাকে দলীয় সদস্য করানো সম্ভব হয়নি।
জেলার বাসিন্দাদের দলীয় সদস্য করানোর ক্ষেত্রে লক্ষ্যপূরণ না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে নির্মলের যুক্তি, জেলার ন’টি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় দলের কার্যকর্তারা রসিদ বিলি ও মোবাইল ফোনে মিস্ড কলের মাধ্যমে বাসিন্দাদের দলীয় সদস্য করেছেন। একটি মোবাইল নম্বর থেকে মিস্ড কল করে একজন বাসিন্দাই দলীয় সদস্য হতে পারেন। ন’টি ব্লকের বেশকিছু পরিবারের সমস্ত সদস্যের মোবাইল না থাকায় তাঁদের দলীয় সদস্য করা সম্ভব হয়নি।

৬ জুলাই থেকে জেলার রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, হেমতাবাদ, করণদিঘি, ইসলামপুর, চোপড়া, গোয়ালপোখর-১ ও ২ ব্লকের ১৯৫০ বুথে দলীয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার তা শেষ হয়। গত ৯ অগস্ট জেলায় দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ মালদহে দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব দিলীপের কাছে দাবি করেন, ওইদিন পর্যন্ত জেলার তিন লক্ষ বাসিন্দাকে দলীয় সদস্য করানো সম্ভব হয়েছে। দলের জেলা নেতৃত্বের পেশ করা নথি ও বক্তব্য শুনে ওইদিন দিলীপ ওই অভিযানের শেষদিন, অর্থাৎ ২০ অগস্টের মধ্যে যে কোনও উপায়ে জেলার ৪ লক্ষ ১৭ হাজার বাসিন্দাকে দলীয় সদস্য করানোর লক্ষ্য পূরণের নির্দেশ দেন। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, ‘‘সদস্য সংগ্রহ অভিযান বাদেও সারা বছর বাসিন্দাদের দলীয় সদস্যপদ দেওয়া হয়।’’