ইসলামপুরের স্কুলে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক জনের মৃত্যু হল। শুক্রবার ভোরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাপস বর্মনের। তাপস ওই দাড়িভিট হাইস্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র। গতকাল মৃত্যু হয় রাজেশ সরকার নামে এক প্রাক্তন ছাত্রের। ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল দুই। অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপির ডাকে উত্তর দিনাজপুর বন্‌ধ ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েকটি বাসে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিট হাইস্কুল। অবরোধ, লাঠিচার্জ, ইট-পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে বোমা-গুলিও চলে বলে অভিযোগ। ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় তাপস। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। শুক্রবার ভোরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিপ্লব সরকার নামে আরও এক ছাত্রের পায়ে গুলি লাগে। ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) দাবি করে, বৃহস্পতিবার মৃত রাজেশ সরকার তাঁদের সংগঠনের এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য। উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে আজ শুক্রবার ১২ ঘণ্টার বন্‌ধের ডাক দেয় বিজেপি। ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা করে এবিভিপি। বন্‌ধ ঘিরে সকাল থেকেই ইসলামপুর-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অবরোধ বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রায়গঞ্জে সরকারি বাসে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন ইসলামপুরে গিয়েছেন এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক সপ্তর্ষী চৌধুরী।

মৃত তাপস বর্মন। —নিজস্ব চিত্র

আরও পড়ুন: সকালেও ছেলে ছিল সুস্থ সবল, বিকেলেই বজ্রপাত! শোকে বিহ্বল রাজেশের পরিবার

আরও পডু়ন: শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রণক্ষেত্র ইসলামপুর, গুলিতে মৃত ১ ছাত্র, সাসপেন্ড ডিআই