দুর্গাপুজোকে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সঙ্ঘাত অব্যাহত। শহরের পুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিস ধরানো হয়েছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর সেই অভিযোগ ওড়াল আয়কর দফতরের কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড (সিবিডিটি)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে তারা। তাতে বলা হয়েছে, পুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিস পাঠানোর অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন।

এ দিন সিবিডিটি মুখপাত্র সুরভি অহলুওয়ালিয়ার তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিস ধরানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। এ বছর দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে কোনও রকম নোটিস পাঠানো হয়নি।

গত বছর বেশ কিছু পুজো কমিটিকে নোটিস ধরানো হলেও, তার পিছনে অন্য কারণ ছিল বলেও জানিয়েছে সিবিডিটি। তারা জানিয়েছে, প্যান্ডেল, আলো এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য বেশ কিছু ঠিকাদার এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে বরাত দেয় পুজো কমিটিগুলি। ওই সব সংস্থাগুলি ঠিক মতো আয়কর জমা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ সামনে এসেছিল। তাই গত বছরের ডিসেম্বরে ৩০টি পুজো কমিটিকে ১৯৬১ সালের আয়কর আইনের ১৩৩(৬) ধারায় নোটিস ধরানো হয়। টাকা মেটানোর সময় কত টিডিএস কাটা হয়েছিল জানতে চাওয়া হয়। তাদের মধ্যে অনেকেই টিডিএস সংক্রান্ত তথ্য জমা দেন।

সিবিডিটির বিবৃতি। 

আরও পড়ুন: হামলার নেতৃত্বে ভাইপো, নেপথ্যে ডন পিসি, প্রভাবশালী নেতার প্রশ্রয়েই টালিগঞ্জ কাণ্ড?​

সিবিডিটি আরও জানিয়েছে, টিডিএস সংক্রান্ত নীতি নিয়ম নিয়ে সম্যক ধারণা নেই বলে জানায় একাধিক পুজো কমিটি। এ জন্য আলাদা ওয়ার্কশপের আয়োজন করারও অনুরোধ করে তারা। তাতে সাড়া দিয়ে গত ১৬ জুলাই টিডিএস সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি নিয়ে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। তাতে অংশ নেন পুজো কমিটি ফোরামের ৮ জন সদস্য। ঠিকাদার এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলি যাতে নির্ধারিত সময়ে কর জমা দেয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: স্পিকারও পারলেন না, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে ইস্তফা শোভনের​

তবে আয়কর দফতরের তরফে নোটিস পাঠানোর কথা অস্বীকার করা হলেও, নিজেদের অভিযোগে অনড় তৃণমূল শিবির। ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর তাদের হয়ে ‘আমার গর্ব মমতা’ নামে যে টুইটার হ্যান্ডলটি পরিচালনা করেন, তাতেও এ দিন দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিস পাঠানো নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করা হয়েছে। এ দিন ওই টুইটার হ্যান্ডলে একটি কার্টুন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘এ বার কি কৈলাস থেকে আসার সময় মা দুর্গাকেও আধার এবং প্যান কার্ড নিয়ে আসতে হবে? তাঁকেও কি আয়কর জমা দেওয়ার নথিপত্র দেখাতে হবে?’ তবে সিবিটিডির বিবৃতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি তৃণমূল নেতৃত্ব।