• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চিন্তা বাড়াল দৈনিক মৃতের সংখ্যা, সামান্য কম সংক্রমণের হার

Corona
গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

দৈনিক সুস্থের সংখ্যার থেকে বেশি দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে গত কয়েক দিন ধরেই এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। কিন্তু বুধবার শঙ্কা বাড়িয়ে দিল মৃতের সংখ্যাটা। এ দিন ফের তা ৬০ পেরিয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৬১ জন। গত ৫ অগস্ট করোনায় মৃতের সংখ্যা ঠিক ওই পর্যায়েই পৌঁছেছিল। তবে গত কালের থেকে সামান্য নীচের দিকে সংক্রমণের হার।

এ দিন রাতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৭ জন। সব মিলিয়ে রাজ্যে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা এখন ২ লক্ষ ১২ হাজার ৩৮৩ জন।

দৈনিক করোনা আক্রান্ত এবং দৈনিক সুস্থের সংখ্যায় দড়ি টানাটানির প্রবণতা বজায় রইল এ দিনও। আজ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৯৭১ জন। সব মিলিয়ে রাজ্যে সুস্থ হয়ে ওঠা করোনা রোগীর সংখ্যা এখন ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ১১৩। এ দিন সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা বে়ড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ১৪৭। সুস্থতার হার অবশ্য গত কালের থেকেও বেড়ে হয়েছে ৮৬.৬৯ শতাংশ।

(গ্রাফের উপর হোভার বা টাচ করলে প্রত্যেক দিনের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন। চলন্ত গড় কী এবং কেন তা লেখার শেষে আলাদা করে বলা হয়েছে।)

আরও পড়ুন: ৮৬১.৯০ কোটিতে নয়া সংসদ ভবন তৈরির বরাত পেল টাটা গোষ্ঠী

আরও পড়ুন: ৫০ লক্ষ ছাড়াল দেশের মোট আক্রান্ত, এক দিনে ১২৯০ জনের মৃত্যু

গত কাল সংক্রমণের হার ছিল ৭.১৪ শতাংশ। এ দিন তা কিছুটা কমে হয়েছে ৭.০৮ শতাংশ।  প্রতি দিন যত জনের কোভিড টেস্ট করানো হয় এবং তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যত সংখ্যকের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাকে ‘পজিটিভিটি রেট’ বা সংক্রমণের হার বলা হয়। এই হার যত কম হবে, ততই তা স্বস্তিদায়ক হবে বলেই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

রাজ্যে কোভিডে দৈনিক মৃত্যুর ঘটনায় রাশ টানা যাচ্ছে না। তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। গত কাল রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫৯ জন। এ দিন সেই সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৬১। দৈনিক মৃতের সংখ্যা শেষ বার ৬১ হয়েছিল গত ৫ অগস্ট। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনায় মোট ৪ হাজার ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইদানীং কালে সংক্রমণের নিরিখে রোজই কলকাতাকে টেক্কা দিচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা। এ দিনও সেই ছবি বহাল রইল। স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ দিন উত্তর ২৪ পরগনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫০৬ জন। কলকাতায় অবশ্য করোনা পজিটিভ ধরা প়ড়েছে ৪৭৪ জনের। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অন্যান্য জেলাতেও। পশ্চিম মেদিনীপুরে ২২৯, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৮৮, হুগলিতে ১৭২, পশ্চিম বর্ধমানে ১১০, পূর্ব বর্ধমানে ৮৭, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৩৩, হাওড়ায় ১৯২, নদিয়ায় ১০৪, মালদহে ১০২, মুর্শিদাবাদে ১০৫, বাঁকুড়ায় ১১১, পুরুলিয়ায় ১২০, আলিপুরদুয়ারে ৯৯, কোচবিহারে ৯৩ এবং দার্জিলিঙে ১০৪ আক্রান্ত হয়েছেন।

এ দিন অবশ্য কলকাতায় মৃতের সংখ্যা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। মহানগরীতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। ৮ জন মারা গিয়েছেন হাওড়ায়। পূর্ব বর্ধমানেও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

(চলন্ত গড় বা মুভিং অ্যাভারেজ কী: একটি নির্দিষ্ট দিনে পাঁচ দিনের চলন্ত গড় হল— সেই দিনের সংখ্যাতার আগের দুদিনের সংখ্যা এবং তার পরের দুদিনের সংখ্যার গড়। উদাহরণ হিসেবে— দৈনিক নতুন করোনা সংক্রমণের লেখচিত্রে ১৮ মে-র তথ্য দেখা যেতে পারে। সে দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ছিল ৪৯৫৬। কিন্তু  সে দিন নতুন আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৫২৬৯। তার আগের দুদিন ছিল ৩৯৭০ এবং ৪৯৮৭। পরের দুদিনের সংখ্যা ছিল ৪৯৪৩ এবং ৫৬১১। ১৬ থেকে ২০ মেএই পাঁচ দিনের গড় হল ৪৯৫৬যা ১৮ মে-র চলন্ত গড়। ঠিক একই ভাবে ১৯ মে-র চলন্ত গড় হল ১৭ থেকে ২১ মে-র আক্রান্তের সংখ্যার গড়। পরিসংখ্যানবিদ্যায় দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ সহজ ভাবে বোঝার জন্য এবং স্বল্পমেয়াদি বড় বিচ্যুতি এড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়)


(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন