• সোমনাথ মণ্ডল ও সিজার মণ্ডল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সরকারি ডাক্তারদের গণইস্তফার ঢেউ, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

Doctors' Strike
গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

শুরু হয়েছিল সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দিয়ে। তার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের গণইস্তফা চলছে। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ (এনআরএস) তো বটেই, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের মতো একাধিক হাসপাতালে গণইস্তফা দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চার জন অধ্যক্ষ এবং ১৭০ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির জন্য রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করছে চিকিৎসক মহল। সরাসরি না বললেও ইস্তফার কারণ হিসেবে প্রশাসনিক অসহযোগিতাকেই কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

শুরুটা হয়েছিল এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ থেকেই। মুখ্যমন্ত্রীর ‘হুঁশিয়ারি’র পর আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবারই ইস্তফা দিয়েছিলেন এনআরএসের প্রিন্সিপাল এবং সুপার। শুক্রবার ওই মেডিক্যাল কলেজের আরও প্রায় ১০০ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে গণ ইস্তফার চিঠি স্বাস্থ্যভবনে পাঠিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

বৃহস্পতিবারই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, শুধু সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে নয়, গোটা রাজ্যেই গণ ইস্তফা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করেএ দিন সকাল থেকেই। বেলা বাড়তেই একে একে ইস্তফা দিতে শুরু করেন আরজি কর হাসপাতালের চিতিৎসকরা। দুপুর পর্যন্ত সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৯৭-এ। তাঁদের অধিকাংশেরই বক্তব্য, প্রশাসনিক অসহযোগিতার জেরে হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়া কার্যত অসম্ভব। মানুষ হাসপাতালে আসছেন, অথচ পরিষেবা পাচ্ছেন না, এটা মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। সেই কারণেই ইস্তফা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলনকারীদের হস্টেল ছাড়তে হবে বলেও হুমকি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ছাড়ার পর কার্যত জোর করে জরুরি পরিষেবা চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর হুমকি এবং প্রশাসনিক এই ব্যবস্থার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ বার সেই এসএসকেএম হাসপাতালেও গণইস্তফা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ইতিমধ্যেই মেডিসিন বিভাগের ৮ জন পদত্যাগ করেছেন।

আরজি কর হাসপাতালে আন্দোলনে নার্সরা। —নিজস্ব চিত্র 

দক্ষিণ ছাড়িয়ে আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা এ দিন পথে নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেন। সেই মিছিল শেষ হওয়ার পরই পদত্যাগ করেন মনোরোগ বিভাগের প্রধান নির্মল বেরা। পরে ওই বিভাগের আরও ৫ জন চিকিৎসকও ইস্তফা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল থেকে পদত্যাগ করেছেন মোট ৮ জন চিকিৎসক। পদত্যাগের পর তাঁরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রশাসনিক অসহযোগিতার জেরে এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। 

এ ছাড়া চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল-সহ প্রায় সব হাসপাতালেই চলছে ইস্তফার প্রক্রিয়া। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পদত্যাগী চিকিৎসকের সংখ্যা। সিউড়ি হাসপাতালের সুপার শোভন দে বলেন, ‘‘চিকিৎসকরা ইস্তফা দেবেন বলে শুনেছি। কিন্তু এখনও আমার কাছে কারও কোনও ইস্তফার চিঠি আসেনি।’’ পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার চিকিৎসকরা এ দিন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার সঙ্গে দেখা করে এনআরএসের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ করবেন না, অচলাবস্থার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করল কেন্দ্র

আরও পডু়ন: ‘আপনি অভিভাবক, আপনাকে অবস্থান থেকে একটু সরে আসতেই হবে’, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আবেদন অপর্ণার

এই পরিস্থিতির মধ্যে  গোটা রাজ্যেই  চিকিৎসা পরিষেবা এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। মুমূর্ষ রোগী নিয়ে গেলেও ভর্তি করা হয়নি। মেলেনি প্রাথমিক চিকিৎসার মতো পরিষেবাও— এমন অভিযোগ রাজ্যের প্রায় সর্বত্র। আর জি কর, মেডিক্যাল কলেজে দেখা গিয়েছে হাসপাতালে এসেও রোগীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের লোকজন।রোগী নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানোর ছবি রাজ্যের সর্বত্র। ফলে সব মিলিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই কার্যত খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। অবিলম্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে গোটা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহলের একটা বড় অংশ।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন