খসড়া তালিকার তুলনায় ভোটার সংখ্যা আপাতত বাড়ল নন্দীগ্রামে। খসড়া তালিকার চেয়ে ৭৭০ জন ভোটারের নাম বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে। অন্য দিকে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে খসড়া তালিকার তুলনায় কমেছে ২,৩২৪ জন ভোটার। রাজ্য রাজনীতিতে এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রই অন্যতম আলোচিত। এক দিকে, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর। অন্য দিকে, নন্দীগ্রাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র।
শনিবার প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত বছর ডিসেম্বরে কমিশন যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৫২৫ জন ভোটারের নাম ছিল। নতুন তালিকায় এর সঙ্গে জুড়েছে ১৮ জন ভোটারের নাম। খসড়া তালিকায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে থেকে বাদ গিয়েছে ২,৩৪২ জন ভোটারের নাম। আপাতত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২০১ জনের।
অন্য দিকে, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বর্তমানে ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭৮ জনের নাম রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম ছিল ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬০৮ জনের। চূড়ান্ত তালিকায় জুড়েছে ১,১৬৭ জন ভোটারের নাম। নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে নতুন করে বাদ গিয়েছে ৩৯৭ জনের নাম।
গত বছর ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ভবানীপুর থেকে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ে নন্দীগ্রাম থেকেও বাদ গিয়েছিল প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোটারের নাম। এ বার দুই কেন্দ্রেই আরও কিছু ভোটার বাদ গেল। সঙ্গে জুড়ল কিছু নতুন ভোটারও, যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় ছিল না।
যদিও এই চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সকলেই বৈধ ভোটার এমন নয়। যাঁদের নথি যাচাই হয়ে ওঠেনি, অর্থাৎ অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছে— এমন ভোটারদেরও নাম রয়েছে শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায়। আগামী দিনে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পরে চূড়ান্ত তালিকা পুরোপুরি স্পষ্ট হবে। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, মমতার বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে এখনও ‘অমীমাংসিত’ রয়েছে ১৪ হাজার ১৫৪ জনের নাম। অন্য দিকে, শুভেন্দুর নন্দীগ্রামেও ‘অমীমাংসিত’ রয়েছে ৮ হাজার ৮১৯ জন ভোটারের তথ্য।
আরও পড়ুন:
গত বছর ২৭ অক্টোবর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কথা জানিয়েছিল কমিশন। তখন রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। এনুমারেশন ফর্ম বিলি এবং জমা নেওয়ার পর্ব শেষে গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়। ওই তালিকা থেকে বাদ যায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম। তালিকায় নাম ওঠে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। এ বার শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা (অসম্পূর্ণ) থেকে আপাতত বাদ গেল ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম।