উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। বিস্ফোরণ, আগুন, সেতু ভাঙার মতো একগুচ্ছ ইস্যু নিয়ে বৃহস্পতিবার নিজের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করলেন তিনি। রাজ্যে নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের প্রতি সতর্কবার্তা দিলেন রাজ্যপাল। যে সব ঘটনা ঘটছে, সে সব যাতে আর না ঘটে, প্রশাসনকে তা-ও নিশ্চিত করতে বললেন। রাজভবন সূত্রে বৃহস্পতিবার এ কথা জানানো হয়েছে।

নাগেরবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজ্যপাল অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং তিনি মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন বলে রাজভবনের তরফে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যে সব সংস্থার উপরে রয়েছে, তাদের আরও অনেক বেশি সতর্ক এবং সক্রিয় হতে বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন রাজ্যপালের প্রেস সচিব মানব বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যপালের এই সতর্কবার্তাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি যথেষ্ট সক্রিয় এবং সতর্ক ছিল না বলেই এই বিস্ফোরণ ঘটল— রাজ্যপালের সতর্কবার্তায় কি এমন কোনও ইঙ্গিত রয়েছে? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল।

বিস্ফোরণের তদন্ত সম্পর্কে রাজ্যপালের যে পরামর্শের কথা রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। যাঁরা ওই ঘটনার তদন্ত করছেন, তাঁরা যেন সব কিছু গভীর ভাবে খতিয়ে দেখেন এবং সম্ভাব্য সব দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে দেখার চেষ্টা করেন— রাজ্যপাল এমনই বার্তা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অগ্নিকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। মেডিক্যাল কলেজে আগুন লাগার জেরে রোগীরা যে অবর্ণনীয় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং যে ভাবে বিপুল মূল্যের ওষুধ পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাতে রাজ্যপাল অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: উড়ালপুল থেকে ধুলোর ঝড়

আরও পড়ুন: রোগীদের যন্ত্রণা কমেনি, বসল নয়া অগ্নিনির্বাপক

তবে এই দুটি ঘটনায় যে রাজ্যপালের ‘উদ্বেগ’ সীমাবদ্ধ নেই, আরও অনেক বিষয় নিয়েই যে তিনি বিচলিত, তা-ও রাজভবনের তরফে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু রাজ্যপালের প্রেস সচিব জানিয়েছেন, ‘রাজ্যে যে ভাবে নিয়মিত আগুন লাগা বা সেতু ভেঙে পড়ার মতো নানা বিপর্যয় ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়’ বলে রাজ্যপাল মন্তব্য করেছেন। শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেই থামেননি কেশরীনাথ। তিনি বলেছেন, প্রাণহানি এবং সম্পত্তিহানি রোখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তাদের আরও সতর্ক থাকা উচিত। রাজভবন সূত্রে এমনই জানানো হয়েছে।

পর পর ঘটতে থাকা বেশ কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা বা বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং রাজ্যের প্রশাসনকে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন— এটা বেশ বিরল ছবি। রাজভবন যে ভাবে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে রাজ্যপালের সেই উদ্বেগ ও সতর্কবার্তার কথা জানিয়েছে, তা নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক শিবিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।