দিন কয়েক ধরে রসিকতা চলছে তৃণমূলের অন্দরে— ‘‘পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতেই পারেননি যে, তাঁর চেয়ে অনেক বড় খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হল।’’

হালকা কটাক্ষের সুর। কিন্তু পরিস্থিতিটা আর মোটেই হালকা নেই। বাংলার নতুন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্কে গুমোট বাড়ছে ভিতরে ভিতরে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের গলায় আশঙ্কার সুর— ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে। সমস্যা তো সবে শুরু। জল আরও অনেক দূর গড়াবে।’’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘেরাওয়ের মাঝখান থেকে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করে আনা, শিলিগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা, নাম না করেও বার বার এ রাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ‘সীমা লঙ্ঘন’ না করার কথা মনে করিয়ে দেওয়া, জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করা— মাত্র আড়াই মাসে জগদীপ ধনখড় বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কার্যকালে খুব একটা স্বস্তিতে থাকবেন না পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসকরা। অতএব আচমকাই মলিনতা ঝেড়ে স্মৃতির স্তূপের তলা থেকে উঁকি দিতে শুরু করেছে ধরমবীর যুগ।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করতে যাওয়াকে ধনখড়ের ‘অতিসক্রিয়তা’ হিসেবে দেখেছে তৃণমূল। —ফাইল চিত্র।

১৯৬৭ সাল। ২১ নভেম্বর। প্রবীণ বামপন্থীদের স্মৃতি এখনও ঝাঁঝিয়ে ওঠে ওই তারিখটা মনে পড়লেই। অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভাকে সে দিন বরখাস্ত করেছিলেন রাজ্যপাল ধর্মবীর। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ওই রকম ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। অতএব ধরবমীরের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছিল গোটা অকংগ্রেসি শিবির।

১৯৬৯ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরে যুক্তফ্রন্ট। মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পরে রাজ্যপালের যে ভাষণ তৈরি করা হয় সরকারের তরফ থেকে, তাতে লিখে দেওয়া হয়েছিল— আমি অন্যায় ভাবে প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙেছিলাম। ধর্মবীর ভা‌ষণের ওই অংশটা পড়েননি। জ্যোতি বসুরা চেপে ধরেছিলেন। যা লেখা রয়েছে, তা-ই পড়তে হবে— দাবি তুলেছিলেন। তবে ধর্মবীরকে দিয়ে ও কথা পড়ানো যায়নি কিছুতেই।

অর্থাৎ ১৯৬৯ সালে বাংলায় নতুন সরকার গঠিত হওয়ার মুহূর্ত থেকে রাজ্যপালের সঙ্গে সরকারের সঙ্ঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। রাজ্য সরকার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর দ্বারস্থ হয়েছিল এবং ধর্মবীরকে সরানোর দাবি তুলেছিল। ইন্দিরা সে দাবি মেনে নেন। শান্তিস্বরূপ ধবন আসেন নতুন রাজ্যপাল হয়ে।

 

আরও পড়ুন-ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি

ধর্মবীরের বিদায়েই রাজ্য সরকার বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজ্যপালের সঙ্ঘাতের আখ্যানে ইতি পড়েছিল, এমন কিন্তু নয়। সঙ্ঘাতের ইতিহাস এ রাজ্যে লম্বা। ১৯৭১ সালেই ধবনের সঙ্গে বামেদের গোলমাল শুরু হয়ে গিয়েছিল। ১৯৭১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম তথা বামেরা সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১১৩টি আসন পায় তারা। কংগ্রেস পায় ১০৫টি। কিন্তু বামেদের সরকার গড়তে প্রথমে ডাকেননি ধবন। কংগ্রেসকেই ডাকেন। রাজ্যপালকে তীব্র কটাক্ষ করে জ্যোতি বসু বলেন, ‘‘ধবনের ধারাপাতে ১১৩-র চেয়ে ১০৫ বড়।’’

এর পরে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত কংগ্রেসের শাসন। রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সঙ্ঘাতের অবকাশই প্রায় ছিল না। ১৯৭৭ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ে বামফ্রন্ট। কেন্দ্রেও ‘বন্ধু’ সরকার, মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে। বামেদের অনুরোধে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল করে পাঠায় ত্রিভুবন নারায়ণ সিংহকে। ত্রিভুবন-জ্যোতি যুগলবন্দিতে তাল কাটেনি এক বারের জন্যও। সমস্যা শুরু হয় ১৯৮০ সালে ফের দিল্লির মসনদ ইন্দিরা গাঁধীর দখলে যেতেই।

১৯৭৭ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ে বামফ্রন্ট। তার পর থেকে একের পর এক রাজ্যপালের সঙ্গে সঙ্ঘাত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। ছবি আনন্দবাজার আর্কাইভ থেকে।

সে দফায় বি ডি পাণ্ডেকে রাজ্যপাল করে পাঠিয়েছিলেন ইন্দিরা গাঁধী। পুরো নাম ভৈরবদত্ত পাণ্ডে। কিন্তু রাজ্য সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত বলেছিলেন, ‘বি ডি মানে ভৈরবদত্ত নয়, বঙ্গদমন’। রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের যত বার মতানৈক্য হয়েছে সে জমানায়, তত বারই প্রমোদ দাশগুপ্ত বা জ্যোতি বসুরা বঙ্গদমন পাণ্ডে নামে ডেকেছেন রাজ্যপালকে।

১৯৮৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হন অনন্তপ্রসাদ শর্মা। বাম সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও মধুর হয়নি। সে বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনয়নের জন্য প্রথা মতো রাজ্যপাল তথা আচার্যের কাছে তিনটি নাম পাঠিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই তিন নামের মধ্যে সরকারের সবচেয়ে অপছন্দের নাম ছিল যেটা, সেই সন্তোষ ভট্টাচার্যকেই উপাচার্য পদে বেছে নেন রাজ্যপাল শর্মা। তা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সঙ্ঘাত তুঙ্গে পৌঁছয়। শর্মা নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠেননি। কিন্তু উপাচার্য হিসেবে সন্তোষ ভট্টাচার্যকে শান্তিতে কাজও করতে দেয়নি বামেরা। কখনও ছাত্র সংগঠন, কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী সংগঠনকে দিয়ে নিরন্তর হেনস্থার মুখে ফেলা হয়েছিল উপাচার্যকে।

আরও পড়ুন-অযোধ্যা মামলা: রায় তাদের পক্ষেই আসবে ধরে নিয়ে আস্ফালন শুরু গেরুয়া শিবিরে

 

এখনকার এক প্রবীণ মন্ত্রীর কথায়, ‘‘রাজ্যপালের বিরোধিতা করাটাকে সিপিএম নিজেদের স্বভাবে পরিণত করে ফেলেছিল। ওরা মনে করে, রাজ্যপাল পদটাই তুলে দেওয়া উচিত। তাই যিনি যখনই রাজ্যপাল হয়ে আসুন, ওরা তাঁর নামে কটূ কথা বলতে শুরু করত।’’

 

টি ভি রাজেশ্বরের উদাহরণ তুলে ধরেছেন ওই রাজনীতিক। ১৯৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়ে আসেন টি ভি রাজেশ্বর। তিনি আগে দেশের গোয়েন্দা প্রধান ছিলেন। রাজ্যপাল পদে তাঁর নিয়োগের খবর পেয়েই সিপিএম নেতারা বলেছিলেন— এ বার গোয়েন্দাকে পাঠানো হল, রাজ্য সরকারের উপরে গোয়েন্দাগিরি করবে।

বামেদের সঙ্গে রাজ্যপালের পরবর্তী সঙ্ঘাত গোপালকৃষ্ণ গাঁধীর জমানায়। নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনার পরে রাজ্যপাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ‘হাড় হিম করা সন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করেছিলেন নন্দীগ্রামের ঘটনাকে। তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল গোটা রাজ্যে। রাজ্যপালের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বামফ্রন্ট সরকারকে প্রবল আক্রমণ শুরু করেছিলেন বিরোধীরা। আর রাজ্যপালের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা শুরু করেছিল বামফ্রন্ট।

গোপালকৃষ্ণ গাঁধীর জমানাতেই ক্ষমতা থেকে বামেদের প্রস্থান সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ২০১১ সালে রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন মুখ্যমন্ত্রী পদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজভবনের সঙ্গে রাজ্য সচিবালয়ের সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল। কারণ বামেরা যে ভাবে আগ বাড়িয়ে চাপে রাখার চেষ্টা করতেন রাজ্যপালদের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু কখনওই তেমন নীতি নেননি। বরাবরই রাজ্যপালের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা চেষ্টাই করতে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু সঙ্ঘাত তাতে থেমে থাকেনি।

২০১১ সালে রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন মুখ্যমন্ত্রী পদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু বছর দুয়েকের মধ্যেই দু’জনের মধ্যে সঙ্ঘাত সামনে এসেছিল। —ফাইল চিত্র।

 

আরও পড়ুন-দিলীপের উক্তির নিন্দায় রাজ্যপাল 

 

২০১৩ সালে হরিমোহন ঘোষ কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে হওয়া সংঘর্ষে গুলি চলে। গুলিতে মৃত্যু হয় কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর তাপস চৌধুরীর। মুখ্যমন্ত্রী সে দিন পূর্ব মেদিনীপুর সফরে গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ফেরার আগেই তাপস চৌধুরীর বাড়ি গিয়ে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানান রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন। তা পছন্দ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর। সাব-ইনস্পেক্টর তাপস চৌধুরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার আর কে পচনন্দাও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন। সেই অবস্থানও মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। পচনন্দাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্যপাল নারায়ণন এর পরে মুখ খোলেন। পচনন্দার অপসারণ ঠিক হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছিলেন। তা নিয়ে রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের সঙ্ঘাত বাড়ে। রাজ্য সরকারের তরফে সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যপালকে ‘হলুদ কার্ড’ দেখানো হবে।

কেশরীনাথ ত্রিপাঠী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে বসেন ২০১৪ সালে। শুরুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়ায় সমস্যা ছিল না। কিন্তু বসিরহাট, বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, দেগঙ্গা-সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার পরে রাজ্যপাল মুখ খোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাতেই গোলমাল তুঙ্গে ওঠে। সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যপাল তাঁকে অপমান করেছেন। ওই রকম অপমানের মুখে তিনি কখনও পড়েননি— সে সময় এমনও বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুরুতে সম্পর্ক ভালই ছিল। কিন্তু সাম্প্রদায়িক অশান্তি নিয়ে কেশরীনাথ মুখ খুলতেই অপমানের অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা। —ফাইল চিত্র।

আবার ফিরে এল সেই ‘অপমান’ প্রসঙ্গ। এ বার মুখ্যমন্ত্রী নয়, রাজ্যপাল তুললেন অপমানের অভিযোগ। বিসর্জনের কার্নিভালে তাঁকে অপমান করা হয়েছে— বলছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। চার ঘণ্টারও বেশি সময় তিনি কার্নিভালে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে ব্ল্যাক আউট করা হয়েছে, অভিযোগ রাজ্যপালের। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তেমনটা কখনও কোথাও ঘটেনি— এমন বলেছেন ধনখড়।

‘কার্নিভালে অপমান’ প্রসঙ্গ অবশ্য জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্ঘাতের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। এর আগেই বেশ কয়েক দফা সঙ্ঘাত হয়ে গিয়েছে রাজ্যপাল-রাজ্য সরকারে। ১৯ সেপ্টেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘেরাওয়ের মুখে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও চলতে থাকে। বাবুলকে হেনস্থার অভিযোগ উঠতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যার দিকে তৎপর হয়ে ওঠেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন সে দিন। যাদবপুরের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ ডেকে বাবুলকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে। উপাচার্য রাজি হননি। তাতে উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন রাজ্যপাল। শেষ পর্যন্ত নিজেই ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। নিজের গাড়িতে করে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন বাবুল সুপ্রিয়কে।

আরও পড়ুন-‘যেখানে পেতাম মারতাম’! ৫ তারিখ থেকেই তক্কে তক্কে ছিল উৎপল, ব্যাগেই থাকত হাঁসুয়া

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরে বিবৃতি এবং পাল্টা বিবৃতির লড়াই চলে রাজ ভবন এবং শাসক দলের মধ্যে। রাজ্যপাল নিজের সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করে তৃণমূল। পাল্টা বিবৃতিতে রাজ্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রাজভবন, রাজ্য সরকার নিজের কর্তব্য পালন করেনি বলে অভিযোগ করা হয়।

সাক্ষাতে যতই সৌজন্য থাক, গত আড়াই মাসে জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্ঘাতের পারদ অনেকটাই উপরে উঠে গিয়েছে। —ফাইল চিত্র।

সেই বাক্‌যুদ্ধ থিতিয়ে যেতে না যেতেই আরও এক সঙ্ঘাত তৈরি হয় ধনখড়ের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে। শিলিগুড়িতে একটি প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামেদের টিকিটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সে বৈঠকে হাজির হন। কিন্তু তৃণমূলের কেউ যাননি। সরকারি কর্তারাও যাননি। রাজ্যপাল তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তৃণমূলের তরফে ফের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়।

কিন্তু জগদীপ ধনখড় যে দমে যাওয়ার পাত্র নন, আড়াই মাস বঙ্গে এসেই তিনি তা বেশ বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনিই বার বার বলেছেন যে, নিজের সাংবিধানিক অধিকার বা এক্তিয়ার কতটা, তা তিনি জানেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি নিজে কখনও সীমা লঙ্ঘন করব না। পশ্চিমবঙ্গে কাউকে সীমা লঙ্ঘন করতে দেবও না।’’ তাঁর এই মন্তব্যের ইঙ্গিত কাদের দিকে, বুঝতে অসুবিধা হয়নি রাজনৈতিক শিবিরের।

তবে এই সঙ্ঘাত আরও বাড়বে বই কমবে না, বলছেন এ রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশই। একের পর এক বিষয়ে নজির বিহীন ভাবে মুখ খুলে ইতিমধ্যেই তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছেন জগদীপ ধনখড়। কিন্তু তিনি আইন ভেঙে কিছু করেছেন, এমনটা জোর দিয়ে এখনও বলতে পারেনি বাংলার শাসক শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, রাজ্যপালের ক্ষমতা যতটুকু রয়েছে, সেই সবটা কাজে লাগাতে প্রস্তুত ধনখড়। তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পথ সামনে আরও কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে। রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ আরও জোরালো ভাবে উঠতে পারে। কিন্তু অপেক্ষায় রয়েছে অনেক বড় সঙ্ঘাত— বলছেন পর্যবেক্ষকরা। ধর্মবীর যুগকেও ছাপিয়ে যাবেন ধনখড়, মনে করছেন অনেকেই।