তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষকে সারদা মামলায় রাজসাক্ষী করতে চায় সিবিআই। কেন্দ্রীয় এই সংস্থা সূত্রেই এই খবর মিলেছে। সিবিআই সূত্রের খবর, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী একান্তে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কুণালের জবানবন্দি নথিবদ্ধ করতে চায় তারা। কুণালকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সারদা কাণ্ডে রাজ্য পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পরে দু’বার কুণাল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গোপন জবানবন্দি দিতে চেয়েছিলেন। এক বার ২০১৩-র নভেম্বরে। পরের বার ২০১৫-য় সিবিআই আদালতে। দু’বারই তা হয়ে ওঠেনি।

সিবিআই সূত্রের খবর, দমদম জেলে বসে কুণাল সারদা কাণ্ড নিয়ে ৯১ পাতার চিঠি লেখেন। ২০১৪-য় সেই চিঠি তিনি সিবিআই-কে দেন। সারদার উত্থান, সুদীপ্ত সেনের রমরমা, সুদীপ্তর সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগাযোগ, সুদীপ্তর থেকে কারা কারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা নিয়েছেন, কারা তা জানেন, জেলে সুদীপ্ত কী বলেছেন— এ সবই সবিস্তার চিঠিতে রয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে।

সিবিআইয়ের এক অফিসার জানিয়েছেন— কুণালের চিঠিতে যাঁদের নাম রয়েছে, এত দিন ধরে তাঁদের ডেকে মিলিয়ে দেখা হয়েছে কুণালের বক্তব্য কতটা ঠিক। মাস তিনেক আগে সিবিআই-এর যুগ্ম অধিকর্তা রাকেশ আস্থানা কলকাতায় এসে ওই চিঠি সম্পর্কে জানতে চান। সেই চিঠিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও দেন। এর ফলে, কুণালের লেখা সেই চিঠি এত দিন পরে ‘সরকারি ভাবে গ্রহণ করা হয়েছে’ বলে সিবিআই সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন: ম্যাথুকে ২ কোটি পাঠাতে হবে হংকং-এ...! ফের ফাঁস ‘মুকুল-কৈলাস’ ফোনালাপ

তদন্তকারীদের দাবি— সারদা তদন্তে এর আগেও কয়েক জনের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বহু তথ্য দিয়েছেন। তবে কুণালের চিঠিতে আরও সবিস্তার তথ্য রয়েছে। তিনি নিজে সারদা মিডিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত ছিলেন। সারদায় থাকাকালীনই কুণাল রাজ্যসভার টিকিট পান। পরে তৃণমূল তাঁকে বহিষ্কার করে। তবে সম্প্রতি কুণালকে ফের তৃণমূলের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে তিনি মঞ্চেও ছিলেন।

কুণাল ২০১৩-র নভেম্বরে যখন সল্টলেক আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে চান, বিচারক তা মঞ্জুর করেন। তাঁকে দমদম জেলের একটি আলাদা কুঠুরিতে ৪৮ ঘণ্টা রাখার পরে আদালতে এসে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কুণালের ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, সে বার ৪৮ ঘণ্টার আগেই পুলিশ তাঁকে অন্য একটি মামলায় সাঁতরাগাছি থানায় সরিয়ে নিয়ে যায়। অন্য কয়েকটি থানাতেও ঘোরানো হয়। অভিযোগ, এই সময়ে গোপন জবানবন্দির আর্জি প্রত্যাহারের জন্য কুণালের উপরে ‘চাপ’ দেওয়া হয়। কুণালও আর্জি তুলে নেন।

২০১৫ সালে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে কুণাল ফের বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার আর্জি জানান। তবে সিবিআই  তখন আদলতকে জানায়, সেই মুহূর্তে তাদের কুণালের গোপন জবানবন্দির প্রয়োজন নেই।