প্রায় আড়াই বছর পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বুধবার বিকেলে মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ দিল্লি রওনা হওয়ার আগে বলেন  ‘‘দীর্ঘদিন দিল্লি যাইনি। এ বার যাচ্ছি রাজ্যের ব্যাপারে, কিছু টাকা পাওনা আছে। তা ছাড়া পিএসইউ ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়া, রেল, বিএসএনএল— অনেক সমস্যা আছে। সুযোগ পেলে ওদের কথা বলতে পারব। রাজ্যের নাম বদলের ব্যাপারটাও আছে।’’  

লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আসন্ন সাক্ষাৎকে নিখাদ সৌজন্যমূলক বলেই চিহ্নিত করেছেন মমতা। কলকাতা ছাড়ার আগে তিনি বলেন, ‘‘দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার নির্বাচিত সরকার। ফলে সামাজিক এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় একসঙ্গে কাজ করার জন্যই আমাদের পরস্পরের দেখা করা দরকার।’’ তবে বুধবারের এই বৈঠক রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট শিবির। সারদা-কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারকে নাগালে পেতে সিবিআই তৎপরতা তুঙ্গে। আজ মমতা দিল্লি পৌঁছনোর পরে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও কথা বলতে চাননি। 

জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে জন নিরাপত্তা আইনে আটক করা প্রসঙ্গে মমতা আজ বলেন, ‘‘কাগজে দেখেছি। আমাকে বিস্তারিত জানতে হবে।’’ যদিও ফারুক, ওমর আবদুল্লা-সহ উপত্যকার বিরোধী নেতাদের আটক করা প্রসঙ্গে প্রথম থেকেই সরব মমতা। এনআরসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এনআরসি হচ্ছে না! না হতেই চিৎকার করছে।’’ 

বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী মানেন না। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গেই ওঁকে বৈঠক করতে যেতে হচ্ছে। এটাই আমাদের জয়। কিন্তু রাজীব কুমার-কাণ্ডের মধ্যে ওঁর দিল্লি যাওয়া নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে।’’