এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র নথি যাচাইয়ের কাজ সোমবার থেকেই শুরু করে দিলেন বিচারকেরা। সুপ্রিম কোর্ট এমনই নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারকদের জন্য এখনও পর্যন্ত ২০২ লগ ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে সোমবার নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আবার বৈঠক করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে রবিবার ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। কী কী কাজ করতে হবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো কোন কোন নথি যাচাই করতে হবে— দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের এই সব নানা কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয় সেখানে। তার পরে সোমবার হাই কোর্টে আবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিচারপতি পাল। বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন জুডিশিয়াল অফিসারেরা।
সময় নষ্ট না-করে নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত শুরু করা উচিত বলে বৈঠকে জানান কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি পাল। তাঁর কথায়, বিপুল পরিমাণ কাজ বকেয়া রয়েছে। এই অবস্থায় সময় নষ্ট করা উচিত নয়। সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন। তিনি জানান, নাগরিকত্ব আদালত ঠিক করবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক কাজ হবে।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর বক্তব্য, অন্য রাজ্যে বাংলার বাড়ি সমগোত্রীয় প্রকল্পের নথি গ্রহণ করা হচ্ছে। অথচ এ রাজ্যে সেটাকে অবৈধ বলছে। এসআইআরে কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরে অন্য নথি গ্রহণ করা না হলে, প্রচুর মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারেন। এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। ওই সব ভোটারদের আরও সুযোগ দেওয়া হোক। কমিশনের যুক্তি, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই সুযোগ ছিল। এখন আর সেই অনুমতি দেওয়া যায় না। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) অশোক চক্রবর্তীর বক্তব্য, অন্য রাজ্যের সঙ্গে এ রাজ্যের তুলনা ঠিক নয়। এখানে পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলার বাড়ি-সহ ওই ধরনের নথি গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
আরও পড়ুন:
সোমবারের বৈঠকে জুডিশিয়াল অফিসারদের অনেকে মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে কতটা ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করা যাবে, সেই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সূত্রের খবর, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকায় প্রয়োজনে নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রধান বিচারপতি পালও জানান, মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যে কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তাদের ব্যবহার করা যেতে পারে। বৈঠক শেষে রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল পিটিআই-কে জানিয়েছেন, সোমবার সকালেই বিচারবিভাগীয় অফিসারদের অনলাইন পোর্টাল নিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গিয়েছে। ওটিপি নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। তা-ও মিটে গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির নথি যাচাই এবং তা নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের। হাই কোর্টই ঠিক করে দিয়েছে কারা এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিধানসভা-ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বিচারকদের। ভোটার তালিকা থেকে কাদের নাম বাদ যাবে, কাদের নাম থাকবে— সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যাবতীয় নথি ‘বিচার’ করে দেখবেন তাঁরা। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৫০ লক্ষের কাছাকাছি ভোটারের তথ্য যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলোই করবেন বিচারকেরা। ২১ ফেব্রুয়ারি ওই কাজের জন্য প্রাথমিক ভাবে ২৪০ জন বিচারককে নিয়োগ করেছে হাই কোর্ট।