দিন তিনেক আগে লাঠি চালিয়ে তাঁদের অনশনে বসতেই দেয়নি পুলিশ। সোমবার হাওড়ার প্রশাসনিক সভায় পার্শ্ব শিক্ষকদের আন্দোলনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য নিয়ে পত্রপাঠ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী শিবিরও।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, ২০১১-য় ওই শিক্ষকেরা পেতেন চার হাজার টাকা। ২০১৮ থেকে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার। ‘‘শিক্ষকদের সম্মান করি। কিন্তু শিক্ষক যদি বলেন স্ট্রাইক করবেন, কালো ব্যাজ পরবেন, কী শিখবে বাচ্চারা? দেখলাম, কয়েক জন কাগজে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, তাঁরা আন্দোলনে নামবেন। এখন এ-সব করছেন। বাম আমলে দাবি নিয়ে কোথায় ছিলেন,’’ প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর। 

পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সত্য নয়। ‘‘মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে এখানে এসেছেন। এখন কটাক্ষ করছেন আমাদের! উনি চাকরি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখেননি। ওঁর পুলিশ আমাদের উপরে অত্যাচার করেছে। এর জবাব ওঁকে দিতে হবে। রাস্তায় নেমেই আন্দোলন চালাব আমরা,’’ বলেন সংগঠনের নেত্রী।

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, ‘‘মমতা যখন জাতীয় সড়কে বসে সিঙ্গুর আন্দোলন করছিলেন, তখন কী হয়েছিল? আইন হলে সকলেরই জন্যই সমান ভাবে তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’’

বারবার পুলিশ দিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন আটকানোর প্রতিবাদ জানিয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে ‘সিটিজেন স্পিক ইন্ডিয়া’। অপর্ণা সেন-সহ ১০ জন সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। সম্প্রতি এক থিয়েটার-কর্মীর উপরে আক্রমণের ঘটনারও নিন্দা করেছেন তাঁরা। এই সব ঘটনায় অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।