গলিত বিটুমিন ছাড়া রাস্তা তৈরি সম্ভব নয়। কিন্তু সেই বিটুমিন গলানোর জন্য শহরের মধ্যে অস্থায়ী ‘হট মিক্স প্ল্যান্ট’ আর চালানো যাবে না। জাতীয় পরিবেশ আদালত শুক্রবার নির্দেশ দিয়েছে, শহরে ধোঁয়া বার করে ওই প্ল্যান্ট পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। তবে পরিবেশ বিধি মেনে শহরের বাইরে হট মিক্স প্ল্যান্ট চালানো যাবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে রাস্তা তৈরির জন্য সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ হট মিক্স প্ল্যান্টে বিটুমিন গলানোয় প্রচণ্ড পরিবেশ দূষণ হয়। তাই নতুন পদ্ধতিতে শহরের বাইরে হট মিক্স প্ল্যান্টে গলানো বিটুমিন বহন করে এনে রাস্তা তৈরির কাজ করতে হবে। সেই সব প্ল্যান্টে বিশেষ ধরনের পরিবেশ-বান্ধব ‘ডিভাইস’ বা যন্ত্রাংশ লাগানো রয়েছে কি না এবং থাকলে তার কার্যকারিতা আগামী তিন মাস ধরে খতিয়ে দেখবে জাতীয় এবং রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। 

রাজ্যের পূর্ত দফতর ও কলকাতা পুরসভা আগেই ‘গ্রিন ট্রাইবুনাল’ বা পরিবেশ আদালতকে জানিয়েছিল, পরিবেশের স্বার্থে তারা এই ধরনের পদ্ধতিগত বদল আনতে ইচ্ছুক। বড় বড় শহরের বাইরে পরিবেশ-বান্ধব প্ল্যান্ট তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ বাঁচিয়ে কী ভাবে রাস্তা 

তৈরি হবে, তার রূপরেখাও পরিবেশ আদালতকে জানিয়েছিল তারা। এই বিষয়ে মামলা চলাকালীন কলকাতা পুরসভা এবং পূর্ত দফতরকে দু’‌কোটি করে মোট চার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি রাখতে হয়েছিল। রাজ্য ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ায় সেই ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশ।