এ বছর আর রাস্তা আটকে দুর্গাপুজো নয়। পুলিশের তরফে এমন ফরমান জারি হতে পারে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে পুলিশকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। ফলে যে পুজো কমিটিগুলি রাস্তার উপরে মণ্ডপ করে, তাদের কপালে ভাঁজ পড়তে পারে। এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পুলিশকে কথা বলতে বলা হয়েছে। প্রতি বছরই পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পুলিশের যে যৌথ বৈঠক হয়, সেখানেই তা স্পষ্ট করে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

 কলকাতা শহরে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন রাস্তার উপরে পুজো হয়ে আসছে। শাসক দলের তাবড় নেতামন্ত্রীরাও অনেক পুজোর সঙ্গে জড়িত। একই ভাবে দুর্গাপুজোর সঙ্গে একটা আবেগও জড়িত রয়েছে। সে সব ‘বাধা’ অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত পুলিশ-প্রশাসন কি কড়া হতে পারবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাস্তার উপরে যে পুজোগুলি হয়, তার মধ্যে অন্যতম একডালিয়া এভারগ্রিন। এই পুজোর সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় জড়িত। থিম পুজোর বাজারেও সাবেকিয়ানাকে ধরে রেখেছে ওই পুজো। দক্ষিণের আর একটি বড় পুজো ত্রিধারা সম্মিলনী, সিংহি পার্কের পুজোর মণ্ডপও রাস্তা উপরেই হয়। এই পুজোগুলির সঙ্গেও শাসক দলেরই নেতা-মন্ত্রীরা জড়িত। ত্রিধারার পুজো কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের তত্ত্বধানে হয়ে থাকে। বেহালার জেমস লং সরণির শ্রীসংঘের পুজো আবার মেয়র পারিষদ তারক সিংহের পুজো বলেই পরিচিত।

আরও পড়ুন: উলুবেড়িয়ায় রেলের ওভারব্রিজের কাজের জন্যে বাতিল দূরপাল্লার এবং লোকাল ট্রেন

রথের রশিতেও রাজনীতির টান, ইসকনে সম্প্রীতির বার্তা মমতা-নুসরতের, মহাজাতি সদনে রাশ বিজেপির হাতে

উত্তরের একটি পুজোর সঙ্গে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের যোগ রয়েছে। এ ছাড়া হাতিবাগান, নলিন সরকার স্ট্রিট, শিকদার বাগান, নবীন পল্লি, ভবানীপুর অবসর, ৬৬ পল্লি, দমদম পার্ক— গোটা কলকাতাতেই অনেক পুজো রাস্তার উপরে হয়ে থাকে। এ বছর আবার পুরসভার কাজ চলছে বলে মহম্মদ আলি পার্কের পুজো তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিটে করার আবেদন জানানো হয়েছে।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম— কয়েকশো পুজোর মণ্ডপ রাস্তার উপরে হয়ে থাকে। এ বার যদি রাস্তা আটকে মণ্ডপ করতে বাধা দেয় পুলিশ, তা হলে শাসক দলেরই বহু নেতা-মন্ত্রীর পুজো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

(পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার খবর এবং বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেবাংলায় খবরপেতে চোখ রাখুন আমাদেররাজ্যবিভাগে।)