সিআইডি প্রধান রাজীব কুমারের ছুটির আবেদন আপাতত ‘ঝুলিয়ে’ রাখল নবান্ন। রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র ওই ছুটির আবেদন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর কিছুই করেননি। পুলিশ ডিরেক্টরেট কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এ ব্যাপারে সিবিআই-কে কিছু জানানো হয়নি। 

রাজ্যের কাছে রাজীবের ছুটির বিষয়ে জানতে চেয়েছে সিবিআই। তাদের মতে, সিআইডি প্রধান গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভবানী ভবনে যাননি। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমন অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চলা সারদা তদন্তে সহযোগিতা করে রাজ্য পুলিশের ডিজির উচিত রাজীবকে সিবিআইয়ের সামনে হাজির করানো। তা না হলে ডিজির বিরুদ্ধেও সারদা তদন্তে ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগ উঠতে পারে। 

নবান্নের বক্তব্য, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজীবের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল। তখন কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর উপর থেকে রক্ষাকবচ তুলে নেয়নি। রাজীবও রোজভ্যালি মামলায় হাজিরার নোটিস পেয়ে গত ২৮ অগস্ট সিবিআই-কে ছুটির বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার পর ১২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রক্ষাকবচ তুলে নিলে তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান। এর পর দু’দফায় রাজীব তাঁর ছুটির মেয়াদ বাড়াতে চেয়ে ডিজির কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সরকারের শীর্ষস্তর থেকেও সিআইডি প্রধানকে কেন ছুটি দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করা হয়েছে। তার পরেও অবশ্য রাজীবের ছুটি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বীরেন্দ্র। 

কেন? রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘আইনশৃঙ্খলা-সহ নানা বিষয়ে ডিজি ব্যস্ত রয়েছেন। সামান্য ছুটি নিয়ে তিনি মাথা ঘামাতে চান না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগে দেওয়া হয়েছে। ওটি বিবেচনাধীন বিষয়।’’ 

নবান্নের পুলিশ কর্তাদের একাংশ বলছেন, আসলে ছুটি নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রাজ্যের পুলিশ প্রধান লাঠি না-ভেঙে সাপ মারার নীতি নিয়েছেন। ফলে রাজীবকে ছুটি দিয়ে সিবিআইয়ের সঙ্গে ‘অসহযোগিতার’ বার্তা যেমন দেওয়া হয়নি, তেমনই ছুটি বাতিল করে রাজীবকেও বিপদে ফেলা হয়নি। সেই ধোঁয়াশাই বজায় রাখতে চান ডিজি। সিবিআই-কে জবাবও সেই কারণেও এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।