• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নীরবতা ভাঙলেন শোভন, নিশানায় মহুয়া-জয়প্রকাশ

Sovan Chatterjee
শোভন চট্টোপাধ্যায়।—ফাইল চিত্র।

Advertisement

বিজেপিতে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পক্ষে’ দাঁড়াবার লোক কি ক্রমেই কমে আসছে? রাজ্য বিজেপির সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারও এ বার তাঁদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করার পরে এই প্রশ্ন সামনে এল। কারণ বিজেপিতে শোভন-বৈশাখীর যোগদানের ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনের কাজ করেছেন জয়প্রকাশবাবু। 

শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে বিজেপিতে সাম্প্রতিক ঘোঁট পাকিয়ে ওঠার মূল বিষয় তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়। তাঁর বিজেপিতে যোগদানের চেষ্টা এবং সেই সূত্রে দলের রাজ্য সভাপতির সঙ্গে দেখা করার পিছনে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ভূমিকা আছে বলে বুধবার দাবি করেছেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ স্বয়ং। বিজেপিতে দেবশ্রীর যোগদানের সম্ভাবনা দেখে প্রথমে মুখ খুলেছিলেন বৈশাখী। বৃহস্পতিবার বৈশাখীকে বাদ দিয়ে একা সামনে এলেন শোভন। কিছু দিন তিনি সংবাদমাধ্যমে কথা বলতেন না। যা বলার, বৈশাখীই বলতেন।

শোভনবাবু এ দিন দেবশ্রীর বিজেপি শিবিরে যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহুয়ার পাশাপাশি আঙুল তুলেছেন জয়প্রকাশবাবুর দিকেও। তাঁর অভিযোগ, ‘‘মহুয়া দেবশ্রীর সঙ্গে কথা বলতে দিলীপবাবুকে অনুরোধ করেছিলেন, এই কথা দিলীপবাবু প্রকাশ্যে বলার পরে ষড়যন্ত্রটা স্পষ্ট হয়ে গেল। বিজেপিতে আমার যোগদানের কথাবার্তা যখন চলছিল, তখন থেকেই ষড়যন্ত্র হচ্ছিল। সেটা আশঙ্কা করে আমি অরবিন্দ মেননকে বলেওছিলাম। কে বা কারা যোগসূত্র করে দেবশ্রীকে বিজেপি দফতরে নিয়ে গিয়ে জটিল জায়গায় নিয়ে গেছে, সেটাও স্পষ্ট। মহুয়ার বিষয়েও বিজেপিকে জানিয়েছিলাম। আর নানা সূত্র থেকে জেনেছি, দেবশ্রীকে বিজেপির দিল্লির দফতরে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। দেবশ্রী যে দলের নেতৃত্বের সঙ্গেই দিল্লি গিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট।’’  

তারই প্রতিক্রিয়ায় জয়প্রকাশবাবু বলেন, ‘‘শোভনবাবু কেন এ কথা বলেছেন, তিনিই বলতে পারবেন। আমি শুধু বুঝতে পারছি না, এক জন রাজনৈতিক নেতা একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে কোনও রাজনৈতিক কথা না বলে এ সব ব্যক্তিগত কথা চর্চা করছেন কেন?’’ জয়প্রকাশবাবুর দাবি, ‘‘আমি দেবশ্রী রায়ের সিনেমা দেখেছি। তৃণমূল বিধায়ক হিসাবেও কখনও কখনও তাঁকে টিভিতে দেখেছি। এর বাইরে তাঁর সঙ্গে কোনও পরিচয় আমার নেই। কোনও দিন তাঁর সঙ্গে দেখাও হয়নি।’’ জয়প্রকাশবাবুর বক্তব্য, ‘‘আমি দিল্লিতে দেবশ্রী রায়কে শোভনবাবু এবং বৈশাখীদেবীর পিছন পিছনই দলীয় দফতরে ঢুকতে দেখেছিলাম। আমার সামনেই বৈশাখীদেবী শোভনবাবুকে দোষারোপ করে বলেছিলেন, তিনিই দেবশ্রীকে সেখানে ডেকেছেন। শোভনবাবু সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদও করেছিলেন।’’ 

শোভনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মহুয়ার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাঁকে বার বার ফোন এবং মেসেজ করা হলেও কোনও জবাব আসেনি। বুধবার দিলীপবাবু দাবি করেছিলেন, মহুয়ার অনুরোধেই তিনি দেবশ্রীর সঙ্গে দেখা করেন। তখন মহুয়া জবাবে বলেছিলেন, ‘‘এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? দিলীপবাবু রসিক মানুষ। উনি রসিকতা করে থাকলে আমি কী করতে পারি!’’

দেবশ্রী কি বিজেপিতে যোগ দেবেন? দিলীপবাবু এ দিন বলেন, ‘‘দলের সকলের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেবশ্রীর কিছু সমস্যা আছে। তিনি কিছু শর্তও দিয়েছেন। দলের পক্ষে সব শর্ত মানা সম্ভব নয়। আমি তাঁকে বলেছি, আপনি নিজের সমস্যাগুলো মেটানোর চেষ্টা করুন। আর আপাতত চুপচাপ থাকুন। দলে বিস্তারিত আলোচনা করে পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হবে।’’

দেবশ্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁকেও ফোন এবং মেসেজ করা হয়। কিন্তু তিনিও জবাব দেননি। দেবশ্রী-কাণ্ডে মহুয়ার নাম জড়ানোয় তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দল নজর রাখছে।’’

  • Tags

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
আরও খবর