নারদ কাণ্ডে শোভন চট্টোপাধ্য়ায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করল সিবিআই। বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ নিজাম প্যালেসে পৌঁছন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘণ্টা খানেক পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অফিস থেকে বেরিয়ে যান তিনি। 

এ দিন সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীরও। কিন্তু আরও খানিকটা সময় চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সিবিআই তা মঞ্জুর করেনি। বৃহস্পতিবারই তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকা হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও। নারদ স্টিং অপারেশনে এই দু’জনকেই টাকা নিয়ে দেখা গিয়েছিল। 

নারদ কাণ্ডে এর আগেও প্রাক্তন মেয়রকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু সে সময় তিনি দিল্লিতে থাকায় সিবিআই দফতটরে উপস্থিত হতে পারেননি। দ্বিতীয় দফায় তলবের পর অবশেষে এ দিন তিনি হাজিরা দিলেন প্রাক্তন মেয়র।

নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিও ফুটেজে শোভনকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। কী কারণে তিনি টাকা নিয়েছিলেন, মূলত তাই জানতে চান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সিবিআর সূত্রে খবর, শোভনবাবুর বয়ানের সঙ্গে ম্যাথু স্যামুয়েলের বয়ানের মিল নেই। এ দিন হাজিরা দেওয়ার কথা রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। নারদ কর্তা ম্যাথুকে এ দিন কলকাতার নিজাম প্যালেস হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু, সিবিআই সূত্রে খবর, তিনি আজ আসতে পারবেন না। ইমেল মারফত তা জানিয়েছেন ম্যাথু। এ দিন সিবিআই অফিসে পৌঁছন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারও। তাঁরও কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

 

আরও পড়ুন: সরকার বিরোধী আন্দোলনের ডাক, মিছিলের আগেই গৃহবন্দি চন্দ্রবাবু ও তাঁর ছেলে​

স্টিং অপারেশনে' যে ভিডিও ফুটেজ সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে, তার সঙ্গে এই কণ্ঠস্বর এর নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর। আগে এই কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। কিন্তু কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে চাননি অভিযুক্তরা। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। হাইকোর্টের অনুমতি পরেই, এক এক করে অভিযুক্তদের কণ্ঠস্বর এর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ম্যাথু সিবিআই এর কাছে দাবি করেছিলেন কেডি সিংহের নির্দেশে তিনি এই স্টিং অপারেশন করেছিলেন।

ম্যাথু স্যামুয়েলের দাবি, কেডি সিংহের অর্থলগ্নি সংস্থা, অ্যালকেমিস্টের সল্টলেক শাখা থেকে তাঁকে নারদ স্টিং অপারেশনের টাকা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি দিল্লিতে ম্যাথু এবং কেডি সিংহকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই।

এর আগে, নারদ কাণ্ডে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র, পুলিশকর্তা এসএমএইচ মির্জা, সাংসদ সৌগত রায়ের ‘ভয়েস ম্যাচিং’ বা কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার পরীক্ষা হয়েছে আগেই।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবেই, কলকাতায় এসে বললেন স্মৃতি ইরানি