বিমানবন্দরে সোনা কাণ্ডে এ বার রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৬ মার্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা কাণ্ডে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর বেঞ্চ শুক্রবার এই নোটিস দিয়েছে। সম্প্রতি রাজীব কুমার মামলার শুনানিতে সিবিআই-এর আইনজীবী বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আনেন। তার পরই এই নোটিস। বিষয়টি ‘খুব গুরুতর’ বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি।

নোটিস দেওয়ার পর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘কোনও একটি বিষয়ে কেউ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এটা খুব খুব গুরুতর। আমরা জানি না, কার দাবি সঠিক।’’ রাজীব মামলায় রাজ্য সরকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি দাবি করেন, এই মামলায় নোটিস পাঠানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেই দাবিকে কার্যত গুরুত্ব না দিয়ে নোটিস রাজ্য সরকারকে নোটিস শীর্ষ আদালতের।

মূল ঘটনা ১৬ মার্চ ভোর রাতের। ওই দিন ব্যাঙ্কক থেকে থাই এয়ারওয়েজের বিমানে দমদম বিমানবন্দরে নামেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা এবং তাঁর সঙ্গী মেনকা গম্ভীর। অভিযোগ, চেক আউটের সময় বিমানবন্দরে কর্তব্যরত কাস্টমস অফিসাররা নারুলাকে আটকান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আগাম না জানিয়ে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় বেশি সোনা নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেই সময় রাজ্য পুলিশ তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে পুলিশে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানান কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যদিও পাল্টা হেনস্থার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছিলেন রুজিরা নারুলাও।

আরও পড়ুন: জানেনই না অনেকে! রাষ্ট্রপতিকে লেখা প্রাক্তন সেনাকর্তাদের চিঠি ঘিরে তুমুল বিতর্ক

আরও পড়ুন: ৫৪৩-এ ১০০ আসনও পাবে না বিজেপি, কার্শিয়াঙে তোপ মমতার

এই নিয়ে গত ২৯ মার্চ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তোলা হয়। এর পর সম্প্রতি সারদা কাণ্ডে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি উত্থাপন করেন সিবিআই-এর আইনজীবী। সেখানে সিবিআই-এর আইনজীবী এই বিষয়টি তুলে ধরে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র’ চলছে। আইনজ্ঞ শিবিরের মতে, সিবিআই আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে তোলার পরই নোটিস ধরিয়েছে শীর্ষ আদালত।