সকালে ঘুম থেকে উঠলে চা বা কফি না খেলে অনেকেরই চলে না। কিন্তু সকালে উঠে পেট্রল না পেলে দিন শুরু করতে পারেন না, এমন কারও কথা শুনেছেন কখনও? শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এই ঘটনা বাস্তব। কানাডার বাসিন্দা এক তরুণীর অদ্ভুত আসক্তির কথা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নেটাগরিকদের অবাক করেছে। তরুণীর দাবি, তিনি সকালে উঠে পেট্রল পান করেন। সেই সময়ে পেট্রল না পেলে তাঁর অস্বস্তি হতে শুরু করে। এই বিপজ্জনক অভ্যাসটি ‘মাই স্ট্রেঞ্জ অ্যাডিকশন’ নামের একটি বিখ্যাত টিভি শোয়ে প্রকাশ্যে আসে। পরে বিষয়টি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, শ্যানন নামের কানাডার বাসিন্দা ওই তরুণী প্রথম প্রথম পেট্রলের গন্ধ খুব পছন্দ করতেন। প্রায়ই তিনি একটি বোতল বা ক্যান নিয়ে দাহ্য তরলটির গন্ধ শুঁকতে শুরু করতেন। ধীরে ধীরে এই শখ আসক্তিতে পরিণত হয়। এর পর নেশার জন্য তিনি সরাসরি পেট্রল পান করা শুরু করেন। শ্যানন জানিয়েছেন, পেট্রল পান করার সময় তাঁর জিভে ঝিনঝিনে ভাব আসে। গলায় তীব্র জ্বালাপোড়া হয়। তবুও তিনি এই আসক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে আনতে পারছেন না। শ্যারন যখনই মানসিক চাপে বা একাকীত্বে ভোগেন, বা উদ্বিগ্ন হন, তখনও তিনি এই নেশায় ডুবিয়ে রাখেন নিজেকে।
টিভি শোয়ে বলা হয়েছে, পেট্রলের নেশায় শ্যাননের অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই বিষাক্ত তরল পান করেন। শুধু তাই নয়, তিনি সারা দিনে বেশ কয়েক বার, এমনকি রাতে ঘুমোনোর আগেও পেট্রল ছাড়া তার চলে না। পরিবারের সদস্যেরা বহু বার এই নেশা ছাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। তা সত্ত্বেও গোপনে পেট্রল পান করেন শ্যানন। নেটাগরিকেরা এই অদ্ভুত আসক্তির কথা শুনে বিস্মিত। চিকিৎসকদের মতে, ক্রমাগত পেট্রল পানের ফলে ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট এবং স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে অচিরেই। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি আসক্তি নয়। বরং ‘পিকা’ নামক একটি বিরল শারীরিক অবস্থা। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তি মাটি, খড়ি, রং বা পেট্রলের মতো ক্ষতিকর জিনিস খাওয়া বা পান করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন।
আরও পড়ুন:
শ্যাননের এই নেশার ভাইরাল কাহিনি নিয়ে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রচুর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘মনে হচ্ছে পেট্রলের দাম বাড়ার কারণে তাঁর বাজেটেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে।’’ দ্বিতীয় নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, ‘‘গাড়িতে জ্বালানি ভরার বদলে, সরাসরি একজনের পেটে ভরা হচ্ছে।’’