তিন থেকে চার ফুট তুষারপাত। জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি সারা। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সরজ অঞ্চলে প্রবল তুষারপাতের ফলে জাঁকজমক সহকারে বিয়ে করতে যেতে পারেননি বর। কনের কথা ভেবে উপায়ান্তর না দেখে তুষারপাত সহ্য করে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ বরফ ভেঙে বিয়ে করতে গেলেন বর। ফেরার সময় বরের হাত ধরে একই ভাবে ফিরলেন নতুন কনে। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পুরু বরফে ঢেকে রয়েছে রাস্তাঘাট। মাত্র কয়েক জন বরযাত্রী নিয়ে গলায় বরমালা পরে তুষারঢাকা রাস্তা দিয়ে হেঁটে কনের বাড়ির দিকে রওনা হয়েছেন তরুণ। বিয়ে করে ফেরার সময়ও একই ঘটনা। একগলা ঘোমটা দেওয়া নবপরিণীতার হাত ধরে বরফের উপর দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন বর। পিছনে হেঁটে আসছেন বাকি বরযাত্রীরা। প্রবল তুষারপাত হওয়ার ফলে পাল্কিতে চড়িয়ে নববধূকে নিয়ে আসা বিপজ্জনক ছিল। বাধ্য হয়ে বর-কনে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছিলেন। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, পাত্র গীতেশ ঠাকুর, সীমিত সংখ্যক অতিথিদের সঙ্গে করে কনের গ্রামে পৌঁছোনোর জন্য প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। চারিদিকে ঢেকে ছিল সাদা তুষারে। সমস্ত অসুবিধাকে অতিক্রম করে গিয়েছিল বিয়ের আনন্দ।
কনের বাড়ি ভাইচরি গ্রামে তিন থেকে চার ফুট তুষারপাতের মধ্যে সমস্ত বিবাহের আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের পরের দিন, ২৫ জানুয়ারি, সকাল ৭টা ১৫ নাগাদ কনে ঊষা ঠাকুরকে নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা হন গীতেশ ও তাঁর আত্মীয়েরা। বর-কনে ও আত্মীয়েরা প্রথমে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে খাড়া পাহাড়ে উঠেছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টা পায়ে হেঁটে সকাল ১১টার দিকে সকলেই নিরাপদে বুনালিঘর গ্রামে পৌঁছোন।
ভিডিয়োটি এক্স হ্যান্ডলের ‘দ্যমডার্নএইচপি’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি পোস্ট করার পর তা হাজার হাজার বার দেখেছেন নেটাগরিকেরা। ভিডিয়োটি দেখে তরুণের দায়িত্ববোধ ও সাহস নিয়ে প্রশংসা করেছেন নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। অনেকেই নবদম্পতিকে তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।