জলনিকাশি ব্যবস্থার হাল বেহাল। শহর জুড়ে পুরনো পাইপলাইন মেরামতের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ৩২ কোটি টাকার সোনার বাট দান করলেন এক ব্যক্তি! তবে যিনি এই দান করেছেন, তিনি তা করেছেন নিজের পরিচয় গোপন রেখে। ঘটনাটি ঘটেছে জাপানের শহর ওসাকায়। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির অনুরোধ, তাঁর দান করা সোনা দিয়ে যেন শহরের জরাজীর্ণ জলের পাইপলাইন মেরামত করা হয়। ওই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
গত বছর ওসাকা শহরে একটি বিশাল সিঙ্কহোল তৈরি হওয়ার ফলে ওসাকার জলনিকাশি এবং পানীয় জলের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৩৩ ফুট চওড়া এবং ২০ ফুট গভীর সিঙ্কহোলটি টোকিয়োর উত্তরে সাইতামায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত নর্দমার পাইপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে ওসাকা শহরের রাস্তার নীচে ৯২টি জলের পাইপলাইনের ক্ষতি হয়, যা সারাতে মোটামুটি ৩০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন:
তবে, সম্প্রতি ওসাকার স্থানীয় প্রশাসনকে ওই পাইপলাইনগুলি সারানোর জন্য অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ৫৬ কোটি ইয়েন বা ৩৬ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২ কোটি) মূল্যের অনেকগুলি সোনার বাট উপহার দিয়েছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, নিজের পরিচয় গোপন রাখা ওই ব্যক্তি সোনা থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে ওসাকার জরাজীর্ণ পাইপলাইনের মেরামতের জন্য ব্যবহারের অনুরোধ করেছেন।
ওসাকার মেয়র হিদেয়ুকি ইয়োকোয়ামা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘৪৬ পাউন্ড (প্রায় ২১ কেজি) ওজনের সোনার বাটগুলি ওসাকার স্থানীয় প্রশাসনকে দান করেছিলেন দাতা। তিনি টাকা দিয়ে পুরনো জলের পাইপগুলি উন্নত করার আর্জি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় আমি বিস্মিত এবং বাক্রুদ্ধ। পাইপলাইনের মেরামতের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল। আমি এই অনুদানের জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তিকে।’’ ইয়োকোয়ামা এ-ও জানিয়েছেন, তিনি দাতার ইচ্ছার সম্মান করবেন এবং সোনা থেকে প্রাপ্ত টাকা পাইপলাইনের মেরামতের কাজেই লাগাবেন।
আরও পড়ুন:
ঘটনা সম্পর্কে মেয়রের বক্তব্যের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ডিডব্লিউ নিউজ়’-এর এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। হইচইও পড়েছে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘এখনকার দিনে এত ভাল মানুষ আছেন?’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘দু’নম্বরি সোনা নয় তো! সোনার সঠিক উৎস খতিয়ে দেখে তার পরেই তা ব্যবহার করা উচিত।’’