খিদের চোটে ডায়াপার ও দেওয়ালের টুকরো খেয়ে ফেলেছিল একরত্তি। ভয়াবহ অপুষ্টি ও জলশূন্যতার কারণে মৃত্যু হয় শিশুটির। দু’বছর বয়সি শিশুটিকে বাড়ির ভিতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটির বাবা-মাকে হত্যা ও অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমেরিকার ইন্ডিয়ানার বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সি ট্রেভর রাইকার্ড এবং ৩১ বছর বয়সি ক্যাথরিন কার্টারকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এরিক রাইকার্ড নামের শিশুটি অত্যন্ত নোংরা ও অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ক্ষুধার কারণে শিশুটি মৃত্যুর আগে ডায়াপারের টুকরো ও দেয়ালের ভাঙা অংশ খেয়ে ফেলেছিল। গত ৩১ মার্চ মৃত শিশুর বাবা ৯১১ নম্বরে ফোন করে জানান যে শিশুটি শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশের কাছে বয়ান দিতে গিয়ে দম্পতি জানান, ঘটনার আগের দিন রাত প্রায় ১১টা নাগাদ তাঁরা সন্তানকে শেষ বার জীবিত দেখেছিলেন। জরুরি পরিষেবাকে খবর দিতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা দেরি হওয়ায় মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকের মতে, শিশুটি সম্ভবত বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই মারা গিয়েছিল। শরীর ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।
আদালতের নথি থেকে জানা গিয়েছে, শিশুটি মারাত্মক অপুষ্টি ও জলশূন্যতায় ভুগছিল। ওজন ছিল মাত্র ১৫ পাউন্ড, যা সমবয়সি একটি শিশুর স্বাভাবিক ওজনের প্রায় অর্ধেক। তদন্তকারীরা শিশুটির সারা শরীরে একাধিক ঘা বা পোকার কামড়ের চিহ্নও দেখতে পান। পুলিশ বাড়িটিতে ঢুকে দেখে সেটির অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। শিশুর ঘরের মেঝেয় মলমূত্রের পাশাপাশি ডায়াপারের টুকরো, ইতস্তত ছড়ানো আবর্জনা এবং পোকামাকড়ের উপদ্রবের চিহ্ন খুঁজে পায় পুলিশ। শিশুদের শৌচাগারটি দেখে মনে হচ্ছিল, তা দিনের পর দিন ধরে পরিষ্কার করা হয়নি।
অথচ বাড়ির বাকি অংশের থেকে আলাদা ছিল শিশুর বাবা-মায়ের শোয়ার ঘরটি। ঘরটি পরিষ্কার ও পরিপাটি ছিল। দম্পতির ঘরের বিছানায় সুন্দর চাদর পাতা ছিল। অগোছালো কিছু নজরে পড়েনি পুলিশের। বাড়িটিতে আরও দুই শিশু থাকত। তাদের মধ্যে এক জনকে তীব্র অপুষ্টি ও জলশূন্যতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।