আইনমন্ত্রীর নিয়োগ নিয়ে রণক্ষেত্র তুরস্কের পার্লামেন্ট! বুধবার সে দেশের মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় বিতর্কিত নেতাকে আইনমন্ত্রী করা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আইনসভার সদস্যেরা। চলে কিল-চড়-ঘুষি। অবাক করা সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ‘বন্ধু’ তুরস্কের মন্ত্রিসভায় রদবদলে ইস্তানবুলের প্রধান সরকারি আইনজীবী আকিন গুরলেককে আইনমন্ত্রীর পদে বসিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোয়ান। বুধবার সে দেশের পার্লামেন্টে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলছিল তাঁর। কিন্তু গুরলেক শপথগ্রহণের সময় আপত্তি জানান বিরোধী নেতারা। নিজেদের আসন থেকে উঠে এসে গুরলেকের শপথগ্রহণে বাধা দিতে শুরু করেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত বাধে সরকার এবং বিরোধী পক্ষের সদস্যদের মধ্যে। শপথগ্রহণের জায়গার কাছে ভিড় জমে যায়। একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন তাঁরা। একে অপরকে লক্ষ্য করে কিল-চড়-ঘুষিও চালাতে থাকেন। বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে পার্লামেন্টের অন্দরে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ইস্তানবুলের প্রধান সরকারি আইনজীবী হিসাবে প্রধান বিরোধী দল ‘রিপাবলিকান পিপল্স পার্টি’ (সিএইচপি)-র বেশ কয়েক জন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা লড়েছিলেন গুরলেক। বিষয়টিকে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা করে আসছেন সিএইচপির নেতারা। ফলে তাঁর শপথগ্রহণের সময়েই সরকার এবং গুরলেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন তুর্কি পার্লামেন্টের বিরোধী সদস্যেরা। তার পরেই সংঘর্ষ বাধে দু’পক্ষের মধ্যে। শেষমেশ গুরলেক যাতে নির্বিঘ্নে শপথ নিতে পারেন, তার জন্য তাঁকে ঘিরে দাঁড়ান ক্ষমতাসীন দলের আইনসভার সদস্যেরা।
প্রেসিডেন্ট এর্ডোয়ান পূর্বাঞ্চলীয় এরজুরুম প্রদেশের গভর্নর মুস্তাফা সিফতসিকেও সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত করেছেন। অন্য দিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে সিএইচপি পরিচালিত পুরসভার বহু কর্তাকে গ্রেফতার করেছে সরকার। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু, যিনি বিবেচিত হন এর্ডোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে। গত বছর গ্রেফতার করা হয়েছিল ইমামোগলুকে।
তুরস্কের মন্ত্রিসভায় বুধবারের সংঘর্ষের ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমে ‘ব্রিকস নিউজ়’-এর এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এক নেটাগরিক কটাক্ষের সুরে লিখেছেন, ‘‘নেতাদের কী হাল! পার্লামেন্টে এ সবও করা যায়?’’