নড়াচড়া করছে না নবজাতক। প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠলেন তরুণী চিকিৎসক। মুখে মুখ রেখে হাওয়া ভরে প্রাণ বাঁচালেন শিশুটির। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সাহরনপুরের নানৌতার একটি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে। জীবন রক্ষাকারী মুহূর্তের সেই নাটকীয় দৃশ্যের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাদনপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা প্রসববেদনা অনুভব করার পর সোমবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। প্রসব সফল ভাবে সম্পন্ন হলেও জন্মের পর শিশুটি কাঁদতে বা শ্বাস নিতে ব্যর্থ হয়। সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ তৈরি হয় চিকিৎসকদের মধ্যে। ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা হয়।
আয়েশার সন্তান জন্ম হয়েছিল রুমা নামে চিকিৎসকের হাতে। নবজাতকের প্রাণ ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। সম্ভাব্য সমস্ত পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখা হয়। উপলব্ধ চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু নবজাতকের অবস্থার উন্নতি হয়নি। তবে হাল ছাড়তে রাজি হননি চিকিৎসক রুমা। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটির মুখে নিজের মুখ চেপে হাওয়া ভরতে শুরু করেন তিনি। নবজাতকের বুকে হালকা হালকা চাপ দেওয়াও শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় নবজাতকটি অবশেষে কেঁদে ওঠে। স্বস্তি ফেরে হাসপাতালের কর্মী এবং শিশুটির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। শিশুটিকে এখন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে ‘অভিমন্যু সিংহ’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার চিকিৎসকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকেরা। চিকিৎসকের নিষ্ঠা এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসাও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘এ বার বুঝতে পারলাম চিকিৎসককে কেন ভগবানের রূপ বলা হয়। কুর্নিশ জানাই এমন অদম্য সাহস এবং চেষ্টাকে। শিশুটিরও মঙ্গল কামনা করি।’’