গণিতে স্নাতকোত্তর। শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ বিএডও করেছেন। তবে চাকরি জোটেনি। বাইকে করে গ্রাহকদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে রোজগার করেন। সম্প্রতি তেমনই এক উচ্চশিক্ষিত অ্যাপ বাইক চালকের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর তাজ্জব বনে গেলেন এক তরুণী। আরও অবাক হয়ে গেলেন বাইকচালক তরুণ তাঁর কাছে চাকরির খোঁজ চাওয়ায় এবং কোনও চাকরিতে সুপারিশ করার কথা বলায়। ওই তরুণী তাঁর সেই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। ভাইরাল হয়েছে সেই পোস্ট। হইচইও পড়েছে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি অ্যাপ বাইক চালকের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত কথোপকথনের অভিজ্ঞতা এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন এক তরুণী। তরুণী জানিয়েছেন, কাজ থেকে বাড়ি ফেরার জন্য অ্যাপ বাইক বুক করেছিলেন তিনি। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে যান বাইকচালক। তরুণীকে নিয়ে রওনা দেন গন্তব্যের দিকে। তরুণী জানিয়েছেন, বাড়ি ফেরার পথে তাঁর সঙ্গে ভারতীয় চাকরির বাজার নিয়ে কথোপকথন শুরু করেন বাইকচালক। তরুণীকে তাঁর চাকরি নিয়েও জিজ্ঞাসা করেন তরুণ চালক।
আরও পড়ুন:
এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে তরুণী লিখেছেন, ‘‘আমি কী চাকরি করি তা জানতে চান বাইকচালক। যখন আমি তাঁকে বলি যে আমার একটি চাকরি আছে, তখন তিনি বলেন যে তিনি জীবনযাপনের জন্য যে কোনও ধরনের চাকরি খুঁজছেন।” তরুণী তাঁকে কোথাও সুপারিশ করতে পারবেন কি না তা-ও নাকি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন তরুণ বাইকচালক। পাশাপাশি জানান, গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। বিএডও করেছেন। তরুণী লিখেছেন, ‘‘উনি প্রায় ৫-৬ বছর ধরে সরকারি শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তাই জীবনযাপনের জন্য অ্যাপ বাইক চালাচ্ছেন এখন।”
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি শেয়ার করে একটি প্রশ্নও তুলেছেন তরুণী। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমরা ছাত্রদের বলি ভাল ভাবে পড়াশোনা করতে, ডিগ্রি অর্জন করতে, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে। তা হলেই নাকি জীবন স্থিতিশীল হবে। কিন্তু যখন কেউ সব কিছু করেও চাকরি পাচ্ছেন না, তাঁর কী হবে?”
‘সাক্ষী’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে করা ওই পোস্ট ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। পোস্টটি দেখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “উচ্চশিক্ষিত তরুণ সমাজের এই অবস্থা দেখে খারাপ লাগছে। কিসের ভরসায় ওরা পড়াশোনা করবে! চাকরি কোথায়?’’