বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এসে মাটির জিনিস তৈরির কারখানায় কাজ করানো হচ্ছিল। বারুইপুরের হাড়দহ পঞ্চায়েতের কালাবুরু এলাকায় এমনই একাধিক কারখানায় হানা দিয়ে বুধবার ৩৪ জন নাবালক শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্য শিশু অধিকার ও সুরক্ষা কমিশনের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ইউনিট, জেলা লিগ্যাল সেলের প্রতিনিধি, কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং বারুইপুর থানার পুলিশ মিলে এ দিন অভিযান চালায়। পাশাপাশি তিন-চারটি কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৩৪ জন নাবালক শ্রমিককে। পুলিশ জানায়, তাদের বেশির ভাগের বয়স ১০ থেকে ১৭-র মধ্যে। প্রায় সকলেই ভিন্ রাজ্যের বাসিন্দা। তাদের পাথরপ্রতিমার একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। কারখানার মালিকদের খোঁজ চলছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কমিশন সূত্রের খবর, পরিবারের লোকজনকে এককালীন কিছু টাকা দিয়ে ওই কিশোরদের এ রাজ্যে নিয়ে আসা হত। ‘বন্ডেড লেবার’ হিসাবে কাজ করত তারা। দিনে ৫০, ১০০, ২০০ টাকা ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করানো হত। তাদের থাকার পরিবেশ বা খাওয়াদাওয়া ছিল অস্বাস্থ্যকর। এ ব্যাপারে কিছু দিন ধরেই অভিযোগ আসছিল। তার ভিত্তিতে এ দিন ঘুটিয়ারি শরিফের কাছে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
উদ্ধার হওয়া বিহারের বাসিন্দা, বছর সতেরোর এক কিশোর জানায়, তার বাবাকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তাকে কাজ করাতে নিয়ে আসা হয়েছিল। কয়েক বছর ধরে সে এখানেই আছে। দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বদলে খাবার ও হাজার ছয়েক টাকা মেলে।
জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের কর্মী অর্পিতা রায়চৌধুরী বলেন, “ছোট ছোট ছেলেদের এনে কাজ করানো হচ্ছিল। ৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।” স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি জানান, দ্রুত ওই শিশু-কিশোরদের নিজেদের এলাকায় ফেরানো হবে। পড়াশোনা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)