E-Paper

জেলা সভাপতি ‘প্রহৃত’ বিজেপির নব্য বিধায়কের বাহিনীর হাতে

বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে এলাকাছাড়া হয়ে থাকা এক তৃণমূল কর্মীকে বাড়ি ফেরানো নিয়েই দু’তরফের সংঘাত বলে দাবি জেলা বিজেপির।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ০৮:৪৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বারাসতের হৃদয়পুরে বুধবার রাতে বিজেপির কর্মীদের হাতে প্রহৃত হলেন দলেরই জেলা নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বারাসত সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মধ্যে। অভিযুক্তেরা স্থানীয় বিধায়কের লোক বলেই অভিযোগ নেতৃত্বের একাংশের। তাঁরা ঘটনার নিন্দাও করেছেন।

বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে এলাকাছাড়া হয়ে থাকা এক তৃণমূল কর্মীকে বাড়ি ফেরানো নিয়েই দু’তরফের সংঘাত বলে দাবি জেলা বিজেপির। ঘটনাকে ঘিরে কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ। মার খেয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরে তৃণমূলের সন্ত্রাসের শিকার হন দলীয় কর্মীরা, এমন অভিযোগ বিজেপি একাধিক বার করেছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, ওই সব ঘটনায় সাড়ে ১২ হাজার এফআইআর করা হয়েছিল। সেই সব মামলায় জড়িত না থাকলে তৃণমূল কর্মীদের ভয়ের কোনও কারণ নেই।দলের নেতা, পুলিশ আধিকারিকেরা তৃণমূলের কর্মীদের তাঁদের ঘরে ফিরিয়ে দেবেন।

বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস মিত্রের অভিযোগ, দলের নির্দেশ মেনে রাজীব ওই তৃণমূল কর্মীকে বাড়ি ফিরিয়েছিলেন। বুধবার রাতে ওই ব্যক্তির বাড়িতে চড়াও হন এক মাস আগে দলে যোগ দেওয়া লোকজন। তাপসের অভিযোগ, ‘‘যাঁরা জেলা সভাপতিকে মেরেছেন,তাঁরা বর্তমান বিধায়কের সঙ্গে গত এক মাস বিজেপি করছেন। আসলে ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়া লোকজনও তৃণমূলের। যা ঘটেছে, অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রথমে ওঁরা ওই তৃণমূল কর্মীকে শাসানি দেন। পরে তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্ত দলটির মারামারি হয়। বিজেপির নতুন লোকজন বেশি মার খেয়েছেন। তার পরে তাঁরা গিয়ে জেলা সভাপতিকে ব্যাপক মারধর করেন।’’

পুলিশের অবশ্য দাবি, ওই রাতে হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে আদি ও নব্য বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গোলমাল হয়। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে ক্ষুব্ধ নতুন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা বারাসত জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দারের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করেন। অবশ্য কারও বিরুদ্ধে লিখিত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে অভিযোগ বারাসত পুলিশ জেলার।

ঘটনার জের এসে পড়ে বারাসত-টাকি রোড ও হাসপাতাল চত্বরে। সেখানে একাধিক বার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা ও মারামারি হয়। পরে এলাকায় ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ।

এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে বারাসতের নতুন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়কে ফোন ও মেসেজ করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজের উত্তরও দেননি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Barasat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy