পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একটি মোটর বাইককে তাড়া করে ধরতে গিয়েছিলেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। তার জেরে দুর্ঘটনায় জখম হলেন ৪ জন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার সন্ধে পৌনে ৬টা নাগাদ বনগাঁর পাওয়ার হাউস এলাকায় চাকদহ সড়কে এই ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা পথ অবরোধ করেন। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার বিশ্বজিৎ সরকারকে ধরে শুরু হয় মারধর। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
বনগাঁর এসডিপিও অনিল রায় বলেন, ‘‘ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের ওই সময়ে ডিউটিই ছিল না। তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে মোটরবাইক ধরতে গিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেপরোয়া মোটর বাইক চালানোর মামলা করা হচ্ছে। বিভাগীয় পদক্ষেপও করা হবে।’’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসডিপিওর নির্দেশে সোমবার বিকেলে ত্রিকোণ পার্ক এলাকায় বনগাঁ মহিলা থানার পুলিশ কর্মীরা বিনা হেলমেটে মহিলা স্কুটিচালকদের ধরপাকড় করছিলেন। বিশ্বজিৎও একটি মোটর বাইক নিয়ে রাস্তায় ছিলেন। তাঁর সামনে দিয়ে একটি মোটর বাইকে তিন যুবক বিনা হেলমেটে চলে যান। বিশ্বজিৎ তাঁদের দাঁড়াতে বললেও বাইক আরোহীরা কথা শোনেনি। অভিযোগ, এরপরেই ওই সিভিক ভলান্টিয়ার নিজে মোটর বাইক নিয়ে ওই বাইকটিকে ধাওয়া করেন। ওই বাইকের চালক আরও জোরে গাড়ি চালিয়ে পালাতে থাকেন।
আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।
পাওয়ার হাউসের কাছে বিশ্বজিৎ ওই মোটর বাইকের সামনে গিয়ে নিজের গাড়িটিকে রাস্তায় আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে দেন। পিছনে থাকা অন্য বাইকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারেন। ধাক্কা লাগে বিশ্বজিতের বাইকেও। সাইকেল আরোহী ও বাইকে থাকা তিন যুবক ছিটকে পড়েন। তাঁদের বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মনসুর আলি মণ্ডল নামে এক যুবকের চোট সব থেকে বেশি। তাঁকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
মনসুরের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ি গোপালনগর থানার সাতবেড়িয়া এলাকায়। এ দিন তিনি তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বনগাঁর জয়পুরে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে এসেছিলেন। মোটর বাইকটি তাঁর শ্যালকের। তিনিই চালাচ্ছিলেন।
এ দিকে, ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে ধরে মারধর শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনগাঁ থানার আইসি নন্দনকুমার পানিগ্রাহী। পরে র্যাফ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান অনিলবাবু। বিশ্বজিৎকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। জনতার দাবি, বাইক ধরার নামে কিছু সিভিক ভলান্টিয়ার মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়ায় মিনিট ৪০ পরে অবরোধ ওঠে।