Advertisement
E-Paper

বিধায়কের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার যুবক

কলার উঁচিয়ে ঘুরত এলাকায়। বলে বেড়াত, ‘‘আরে, বিধায়ক তো আমার কবেকার বন্ধু।’’ কখনও বলত, ‘‘তৃণমূলের অন্দরে আমার নামডাক কী কম!’’ বলেই হয় তো পকেট থেকে বের করে দেখাত কাগজ। যেখানে সংবাদপত্রে নিজের নাম, ছবি, দলের পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল নিজেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০১৬ ০০:২৯

কলার উঁচিয়ে ঘুরত এলাকায়। বলে বেড়াত, ‘‘আরে, বিধায়ক তো আমার কবেকার বন্ধু।’’ কখনও বলত, ‘‘তৃণমূলের অন্দরে আমার নামডাক কী কম!’’ বলেই হয় তো পকেট থেকে বের করে দেখাত কাগজ। যেখানে সংবাদপত্রে নিজের নাম, ছবি, দলের পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল নিজেই।

সব দেখেশুনে গাঁয়েগঞ্জের অনেকে ভিরমি খেত। ভাবত, দাদার দাপট তো কম নয়! আর এই ভাবমূর্তির সুযোগ নিয়েই কাউকে চাকরি পাইয়ে দেবে, কাউকে কন্যাশ্রীর ভাতা তাড়াতাড়ি পাইয়ে দেবে— এ সব বলে টাকা তুলে বেড়াত বছর তিরিশের যুবক আতিয়ার রহমান।

ব্যবসা মন্দ চলছিল না। এর মধ্যে আবার রোমান্সও কম ছিল না বিবাহিত যুবকের। নিজেকে কেউকেটা বলে পরিচয় দিয়ে মহিলাদের সঙ্গে ভাব জমাতেও সে ছিল ওস্তাদ। চাকরির টোপ দিয়ে মহিলাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার ব্যাপারেও তার ‘নামডাক’ কম নয়।

Advertisement

কিন্তু হলে কী হবে। বাজারে পাওনাদারদের সংখ্যা যে বেড়েই চলেছিল। বাড়ছিল প্রেমিকার সংখ্যাও। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার ফেঁসেই গেল আতিয়ার। বসিরহাটে শিক্ষা দফতরের কাছে তাকে ধরে ফেলে কিছু পাওনাদার। তখনও এর ওর নাম বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করে সে। কিন্তু এ বার আর চিঁড়ে ভেজেনি তাতে। লোকজন তাকে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটের হরিহরপুরের কাঁটারহাটি গ্রামের বাড়ি আতিয়ারের। তার কীর্তি ফাঁস হওয়ার পরে এ দিনই আতিয়ারের নামে ৬টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বসিরহাট থানায়। তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুনও মারধরের অভিযোগ এনেছেন স্বামীর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিজেকে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠনের সভাপতি বলে পরিচয় দিত আতিয়ার। স্থানীয় সংবাদপত্রে নিজের নামে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল ওই যুবক। বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে যাকে তাকে বলে বেড়াত। সব শুনে দীপেন্দুবাবু বিরক্ত। বললেন, ‘‘আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছে ওই যুবক। যে পদের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে ও আমাদের দলে এমন কোনও পদই হয় না। ছেলেটি দলের সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত নয়।’’

পুলিশ জানিয়েছে, আতিয়ারের কাছে বাংলাদেশের সাতক্ষিরার প্রেস ক্লাবের কার্ড মিলেছে। একাধিক নামের ভিজিটিং কার্ড, ডেবিট কার্ড উদ্ধার হয়। আতিয়ার বলে, ‘‘চাকরি জোটেনি। ২০০৯ সাল থেকে এই পথ বেছেছি। বাম জমানার পরে কখনও বিজেপি ইদানীং আবার তৃণমূল নেতাদের নাম করেও টাকা নিয়েছি।’’

হাসনাবাদের ছয়মালপুরের আবুল হোসেন বলেন, ‘‘চাকরি পাইয়ে দেবে বলে আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছিল আতিয়ার।’’ স্ত্রী ছুম্মার কথায়, ‘‘বিয়ের পর থেকেই দেখছি, বাড়িতে টাকা চাইতে লোক আসে। জানতে চাইলে মারধর করত।’’ ছুম্মার অভিযোগ, বহু নারীতে আসক্ত ছিল স্বামী।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy