আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বসিরহাটের ১ ব্লকের পিঁফা পঞ্চায়েতের কংগ্রেস প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেন বিডিও। বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রামে গেলেও প্রধানের দেখা পায়নি। নেই। বাড়ি তালা বন্ধ। পঞ্চায়েতেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে অবিলম্বে পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্ব উপপ্রধানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রধানের বাড়িতে নোটিস লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইসি গৌতম মিত্র বলেন, ‘‘পিঁফা পঞ্চায়েতের প্রধান নীতারানি ভাটের বিরুদ্ধে বিডিও কল্লোল বিশ্বাস সরকারি তহবিল তছরুপের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।’’ কংগ্রেসের অবশ্য দাবি, চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে প্রধানকে। এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা।
ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রের খবর, ওই পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৯টি। গত নির্বাচনে ১১টিতে বামপন্থীরা এবং ৪টি করে আসনে কংগ্রেস ও তৃণমূল প্রার্থী জয়ী হন। ওই পঞ্চায়েতে প্রধানের পদটি তপসিলি মহিলা সংরক্ষিত। সিপিএমের জয়ী কেউ তপসিলি মহিলা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নীতারানিই প্রধান নির্বাচিত হন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ওই পঞ্চায়েত এলাকার ৩৪টি রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে টেন্ডার ডাকা হয়। পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য তথা বিরোধী দলনেতা আলম মণ্ডল জানান, টেন্ডার নিয়ে স্বজনপোষণের পাশাপাশি ৩৪টি রাস্তার মধ্যে কমবেশি ১৯টি রাস্তার কাজে নিয়ম ভেঙে দুর্নীতি করা হয়েছে। বিশেষ করে পিঁফা মাছ বাজার এলাকায় প্রায় ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার একটি রাস্তার কাজে অনিয়ম করায় প্রধান-সহ পঞ্চায়েতের আরও দুই কর্মীর বিরুদ্ধে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে নালিশ জানানো হয়। তারই ভিত্তিতে তদন্তে নেমে রাস্তার কাজ নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় বিডিওর পক্ষে প্রধানের বিরুদ্ধে বসিরহাট থানায় এফআইআর করা হয়েছে।
দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আসলে তৃণমূলের চাপের কাছে পুলিশ-প্রশাসনের ‘নতি শিকার’ বলে দাবি করে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অমিত মজুমদার বলেন, ‘‘যে রাস্তাটি নিয়ে দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, তার মাপজোক করে বাস্তুকার ও নির্মাণ সহায়ক ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা খরচ ধার্য করেন। সেই মতো প্রধান ঠিকাদারকে ওই টাকার চেক কেটে দেন। এখন কোনও রকম মাপজোক না করেই ব্লক প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, মাত্র ৩৯ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে। এমন হলে তো তার দায় ওই বাস্তুকার ও নির্মাণ সহায়কের উপরেই বর্তাবে।’’ তাঁর বক্তব্য, ব্লক প্রশাসনের পক্ষে শো-কজ করা হলে প্রধান সে কথা বলেওছিলেন। তা সত্ত্বেও প্রধানকে জড়ানো হয়েছে।