Advertisement
E-Paper

স্কুলে ঢুকে চাকরির আব্দার তরুণীর

দরজা খোলার আগে স্কুলে আসেন, ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পড়াতে বসান, গান-কবিতা শোনানোর পাশাপাশি পড়া না পারলে মারধরও করেন। শিক্ষিকা হিসাবে স্কুলে চাকরি না করলেও এক তরুণীর এ হেন আচরণে রীতিমত চিন্তায় পড়েছিলেন বসিরহাটের দালালপাড়ার ক্ষেত্রমোহন প্রাথমিক স্কুলের একমাত্র শিক্ষক। অভিভাবকেরাও চিন্তায়। কেন তাঁকে চাকরি দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে বুধবার হুলুস্থুল কাণ্ড বাধান ওই তরুণী। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৫৬

দরজা খোলার আগে স্কুলে আসেন, ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পড়াতে বসান, গান-কবিতা শোনানোর পাশাপাশি পড়া না পারলে মারধরও করেন। শিক্ষিকা হিসাবে স্কুলে চাকরি না করলেও এক তরুণীর এ হেন আচরণে রীতিমত চিন্তায় পড়েছিলেন বসিরহাটের দালালপাড়ার ক্ষেত্রমোহন প্রাথমিক স্কুলের একমাত্র শিক্ষক। অভিভাবকেরাও চিন্তায়। কেন তাঁকে চাকরি দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে বুধবার হুলুস্থুল কাণ্ড বাধান ওই তরুণী। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়।

ওই প্রাথমিক স্কুলে ২৮ জন ছাত্রছাত্রী। একজন মাত্র শিক্ষক সুবীর দে। সে ভাবেই চলছিল স্কুল। কিন্তু মাস ছ’য়েক আগে হঠাৎই একদিন স্কুল চলাকালীন ক্লাসে ঢুকে পড়েন এক তরুণী। শিক্ষকের হাতে কাউন্সিলরের দেওয়া একটা শংসাপত্র দিয়ে বলেন, ‘‘এই স্কুলে আমার চাকরি হয়েছে। আমাকে শিক্ষকতা করতে দিন। এ সব দেখে শুনে তো মাস্টারমশাইয়ের চোখ কপালে। কাউন্সিলরের শংসাপত্রে চাকরি হয় না, এই সরল সত্যটি তিনি তরুণীকে বোঝাতে হিমসিম খান। তরুণী দিব্যি ক্লাসের মধ্যে বসে পড়ে পড়ুয়াদের বই-খাতা দেখতে শুরু করেন। তাদের পড়ানো শুরু করে দেন।

সুবীরবাবু ভেবেছিলেন, ঘটনাটা একদিনেই মিটে যাবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। তরুণী প্রতিদিনই সকালে নিয়ম করে স্কুলে আসতে শুরু করেন। মাঝে মধ্যে চিৎকার চেঁচামিচিও জুড়তেন। সুবীরবাবুর জন্যই নাকি তাঁর চাকরি হচ্ছে না, এমন অভিযোগ করতেন। কিন্তু ঘটনাটা মাত্রা ছাড়ায় বুধবার।

Advertisement

পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ স্কুলে আসেন ওই তরুণী। পরীক্ষা হয়ে যাওয়ায় পড়ুয়ারা কেউ ছিল না। মাস্টারমশাই একমনে খাতা দেখছিলেন। ওই তরুণী ক্লাসঘরে ঢুকে পড়ে সুবীরবাবুর জন্য তাঁর চাকরি হচ্ছে না বলে চিৎকার জোড়েন। লোক জড়ো হয়ে যায়। তরুণীর সঙ্গে আবার অন্য এক মহিলাও ছিলেন। সুবীরবাবুকে নানা ভাবে তাঁরা হুমকি দেন বলেও অভিযোগ।

খবর যায় থানায়। পুলিশ আসে। তবে পুলিশ আসছে বুঝে ততক্ষণে চোটপাট বন্ধ রেখে সরে পড়েছেন দুই মহিলা। পরে জানাজানি হয়, মহিলা মানসিক ভাবে খুব সুস্থ নন।

সুবীরবাবু বলেন, ‘‘মহিলা যে মানসিক ভারসাম্যহীন, তা প্রথম থেকেই আমার সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু ওঁর হাতের লেখা, গান, কবিতার পাশাপাশি পড়ানোর ভঙ্গি দেখে কখনও মনে হয়নি উনি শিক্ষিকা নন।’’

তরুণীর বসিরহাটের দালালপাড়ারই বাসিন্দা। তাঁর দাদা এ দিন বলেন, ‘‘ঘটনাটা দুর্ভাগ্যজনক। আসলে আমার বড় বোন ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভাল। বি এ পাস করার পরে শিক্ষক হিসাবে কোনও স্কুলের চাকরিতে যোগ দিতে চেয়েছিল। বহু পরীক্ষায় বসেও লাভ। হয়নি। এরমধ্যে আবার মায়ের মৃত্যু ওর উপরে বড় প্রভাব ফেলেছে।’’ বোনের চিকিৎসা করাবেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁর দাদা।

সুবীরবাবুর দাবি, ঘটনার কথা এর আগে শিক্ষা দফতরে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। ফের নতুন করে বিষয়টি উপর মহলে জানাবেন বলে মন্তব্য করেছেন ওই শিক্ষক।

এ দিকে, এত সবের পরেও হেলদোল নেই তরুণীর। এরপরেও কী স্কুলে যাবেন? মলিন হয়ে আসা একটা অপ্রাসঙ্গিক শংসাপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যাব না কেন, আমার কাছে চাকরির কাগজ তো আছে!’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy