E-Paper

আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধের, আক্রান্ত দুই বিএলও

মালদহের চাঁচলে এ দিন সকালে নোটিস দেওয়াকে ঘিরে বিবাদের জেরে বিএলও আনিসুর রহমানকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে কিছু কংগ্রেস কর্মীর বিরুদ্ধে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ উঠল শুক্রবারেও। একাধিক জেলায় প্রামাণ্য নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নেওয়া শুরু হয়েছে। তবে নথি জমা দেওয়ার রসিদের বদলে, শুনানির নোটিসের উপরে সিল-সই করে দেওয়া চলেছে। নোটিস দিতে গিয়ে কোচবিহারে ছুরিকাহত হন এক বুথ লেভল অফিসার (বিএলও)। আর এক বিএলও-কে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে মালদহে। শুনানিতে হয়রানির অভিযোগে হয়েছে অবরোধ-বিক্ষোভও।

সরস্বতী পুজো এবং সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী ছিল এ দিন। একাধিক জেলায় শুনানি হয়নি। তবে তার মধ্যেও মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরের সফর আলি শেখের (৭৫) মৃত্যুতে এসআইআর-আতঙ্কের প্রসঙ্গ উঠেছে। সম্প্রতি শুনানির নোটিস পান তিনি। বৃদ্ধের নাতনি শর্মিলা খাতুনের দাবি, “ঘরে নথি খুঁজে না পেয়ে এ দিন অসুস্থ হন দাদু। ডোমকল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে হৃদ্‌রোগে মারা যান। এসআইআর-এর জন্যই মারা গেলেন।” তৃণমূল বিধায়ক সৌমিক হোসেন বলেন, “একের পরে এক মৃত্যুতেও হেলদোল নেই নির্বাচন কমিশনের।” জেলা বিজেপির নেতা শাখারভ সরকার বলেন, “সব মৃত্যুই এসআইআর-আতঙ্কে বলে দাবি করছে তৃণমূল।”

মালদহের চাঁচলে এ দিন সকালে নোটিস দেওয়াকে ঘিরে বিবাদের জেরে বিএলও আনিসুর রহমানকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে কিছু কংগ্রেস কর্মীর বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় পাথরের ঘায়ে বিএলও-র ভাগ্নে নুরুল ইসলামের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ দিন বিকেলে নোটিস দেওয়ার সময়ে কোচবিহারের গীতালদহে মনোয়ার হোসেন নামে এক বিএলও-র উপরে ছুরি নিয়ে চড়াও হয় এলাকার দুই যুবক। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এসে এক জনকে আটকে পুলিশে দেন। অন্য জন পালায়। মনোয়ার বর্তমানে দিনহাটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর কপালে ক্ষত রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে ওই হামলা, স্পষ্ট নয়।

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে শুনানিতে হাজির দৌলতাবাদের রেজাউল মণ্ডল বলেন, “শুনানিতে পাসপোর্ট-সহ অন্য নথি দিয়েছি। কিন্তু রসিদ দেয়নি। দেখলাম, শুনানির নোটিসে সিল মেরে দিচ্ছে। আমি নোটিস নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিলাম বলে সে সিলও দেয়নি।” তবে বহরমপুরের বিডিও অমরজ্যোতি সরকার বলেন, “শুনানিতে অনেকে অনেক ধরনের নথি আনছেন। তাই কোন নথি জমা পড়ল, তার আলাদা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। শুনানির নোটিসে সিল করে রসিদ দিচ্ছি।” পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ১ এবং ৩ ব্লক, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি, হরিরামপুরে এ দিন শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে রসিদও। এ দিন থেকে উত্তর দিনাজপুরের ৫০টিরও বেশি শুনানি কেন্দ্রে পুলিশ, গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ইটাহার-সহ কয়েকটি জায়গায় সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে শুনানি হয়।

হুগলির চুঁচুড়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৭ নম্বর ফর্ম জমা করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির দুই মহিলা কর্মীর বিরুদ্ধে। সে মর্মে রাজহাটের শতাধিক বাসিন্দা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “অনৈতিক ভাবে যাঁরা ওই ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “বিজেপির কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কারও নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানাননি।”

দূরের ব্লক অফিস এলাকায় এসআইআর-শুনানির বিরোধিতায় এ দিন দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের দিঘার মোড়ে যশোর রোড অবরোধ করেন এলাকাবাসী। সমাজমাধ্যমে হুগলির তারকেশ্বরে এক শুনানিকেন্দ্রের সামনে বক্স বাজিয়ে বিক্ষোভ, অবরোধের ভিডিয়ো দিয়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, ‘এসআইআর শুনানিকেন্দ্র, না কি মাছের বাজার’! ওই অবরোধ-বিক্ষোভে উপস্থিত চাঁপাডাঙা পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান লাল্টু চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় আমরা লড়াই করছি।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy