Advertisement
E-Paper

জমির দাম না মেলায় কর্তাকে তলব কোর্টের

আদালতে জমির দাম ঠিক হয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে সরকারের অধিগৃহীত জমির দাম কৃষককে দেওয়ার নির্দেশও ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৭ ০১:৪১

আদালতে জমির দাম ঠিক হয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে সরকারের অধিগৃহীত জমির দাম কৃষককে দেওয়ার নির্দেশও ছিল। তারপরেও ওই কৃষকের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ পেয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসককে (ভূমি অধিগ্রহণ) সশরীরে তাঁর এজলাসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেন বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (প্রথম) মহম্মদ রেজা। আজ, বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলাশাসককে আদালতে আসার নির্দেশ দেন তিনি।

২০০৫ সালের শেষ দিকে আবাসন ও স্বাস্থ্য উপনগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে বর্ধমান শহর লাগোয়া গোদা নবাবহাটের ইউসুফাবা কাটরাপোতা মৌজায় জাতীয় সড়কের পাশে চাষযোগ্য ৩১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। তবে অধিগৃহীত ৭১ শতক জমির মালিক আব্দুল আলিম সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের মূল্যে (শতক পিছু দাম দেওয়া হয়েছিল ৫ হাজার ৮০৭ টাকা) খুশি না হয়ে বর্ধমান জেলা আদালতের দ্বারস্থ হন। বাজার দর অনুযায়ী জমির দাম চেয়ে মামলা করেন তিনি। পাঁচ বছর মামলা চলার পরে ২০১১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বর্ধমান আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ রায় ঘোষণা করেন, শতক পিছু ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে জেলা প্রশাসনকে। বর্ধিত মূল্য অনুযায়ী আব্দুল আলিমের জমির ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাঁড়ায় ৫২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। রায় ঘোষণার তিন মাসের মধ্যে ওই টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেয় আদালত। কিন্তু জেলা প্রশাসন ওই টাকা মেটায়নি। বাধ্য হয়ে ২০১২ সালের ৭ মার্চ ফের আদালতের দ্বারস্থ হন ওই জমিদাতা। তাঁর অভিযোগ, ওই টাকা দিতে জেলা প্রশাসন টালবাহানা করছে।

ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন অধিগৃহীত জমি বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে। তবে তাঁরাও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী টাকা দিতে আগ্রহী নন বলে জানা গিয়েছে। ওই জমিদাতার আইনজীবী রাজকুমার গুপ্ত বলেন, “আমার মক্কেল প্রাপ্য টাকা কেন পাচ্ছেন না, সে ব্যাপারে সরকার কিছু জানাচ্ছে না। অথচ সরকার পক্ষের আবেদনে বছরের পর বছর মামলা পিছিয়ে যাচ্ছে।” এরপরেই তিনি আইন অনুযায়ী সরকারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। বিচারক অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি অধিগ্রহণ)-কে হলফনামা দিয়ে ওই হিসেব দিতে বলেন। কিন্তু পরপর চারটে মামলার দিন পার হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতকে জানান, সরকারের সম্পত্তির হিসেব তাঁর জানা নেই। তারপরেই আদালত অতিরিক্ত জেলাশাসককে (ভূমি অধিগ্রহণ) সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement
Additional District Collector
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy