আজ, সোমবার পূর্ব বর্ধমানে নির্বাচনী জনসভা করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিধানসভা ভোটে পূর্ব বর্ধমানে এটাই তাঁর প্রথম সভা। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নিমতলা মাঠে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষ। অপেক্ষায় রয়েছেন জেলার আলু, পেঁয়াজ চাষি, তাঁতশিল্পীরাও। পূর্বস্থলী ২ এবং কালনা ১ ব্লকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ পরায় দু’জনের মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে সম্প্রতি। বিভিন্ন কেন্দ্রে দলের গোষ্ঠীকলহও কাঁটা হয়ে রয়েছে। সবমিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, তাকিয়ে রয়েছেন অনেকে।
পূর্বস্থলী ১ ব্লকের কিসান মান্ডির কাছে এই মাঠে আগেও মুখ্যমন্ত্রী সভা করেছেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় সভা সেরে পূর্বস্থলীতে আসবেন মমতা। সভাস্থলে ১২টার মধ্যে পৌঁছনোর জন্য আবেদন জানানো হয়েছে সবাইকে। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছবেন দুপুর ১টা নাগাদ।মাঠের এক প্রান্তে তৈরি করা হয়েছে শক্তপোক্ত মঞ্চ। মঞ্চের ৫০ ফুট দূরে তৈরি হয়েছে হেলিপ্যাড। সেখানে নেমে কার্পেট বিছানো পথে হেঁটে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। দু-এক পশলা বৃষ্টিও হয়। তৃণমূল নেতাদের একাংশের দাবি, দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় পৌঁছতে যাতে অসুবিধা না হয়, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নাকাশিপাড়া থেকে সড়ক পথে আসবেন তিনি। মঞ্চে ২৫ জনের বসার জায়গা থাকছে। থাকার কথা কালনা মহকুমার তৃণমূলের চার প্রার্থী, নদিয়ার নবদ্বীপের প্রার্থী, নবদ্বীপের পুরপ্রধান, পূর্ব বর্ধমানের জেলা সভাপতি-সহ কয়েক জনের। তবে ডাক পাননি পূর্বস্থলী উত্তরের বিদায়ী বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। পরামর্শদাতা সংস্থার প্রতিও ক্ষোভ জানান। প্রচারেও দেখা যায়নি। এ দিন তপন বলেন, ‘‘বাড়িতে আছি। আমায় কেউ ডাকেনি। আমার দরকারও নেই।’’ সভাস্থলের কাজকর্ম পরিদর্শন করতে যান বিদায়ী মন্ত্রী তথা পূর্বস্থলী দক্ষিণের প্রার্থী স্বপন দেবনাথ। তিনি জানান, সভা যাতে নির্বিঘ্নে হয়, তার যাবতীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এসআইআর পরবর্তী ভোটার তালিকায় জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে প্রচুর নাম বাদ গিয়েছে। সোমবার কালনার সুলতানপুর পঞ্চায়েতের হৃদরোগে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার দুশ্চিন্তাকে দায়ী করেন। পূর্বস্থলী ২ ব্লকের পাটুলি স্টেশন বাজারের কাছেও এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুতে একই অভিযোগ উঠেছে। জেলার এক তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘আমাদের অনুমান ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মুখ খুলবেন।’’
জেলার চাষিদের একটা বড় অংশ আলু, পেঁয়াজ চাষের উপরে নির্ভরশীল। দুই ফসলেই লোকসান হয়েছে এ বার। কালনার আলু চাষি রতন মণ্ডল বলেন, ‘‘আলু চাষ করে ঋণে জড়িয়ে গিয়েছি। অনেকেরই এই অবস্থা। আশা করছি, মুখ্যমন্ত্রী এমন কিছু বলবেন যাতে আমরা উপকৃত হই।’’ সভাস্থলের আশেপাশে বহু তাঁতশিল্পীর বাস। দীর্ঘদিন ধরে তাঁত শিল্পের দশাও ভাল নয়। শিল্পীদের অনেকে ভিন্ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁরাও অপেক্ষায় রয়েছেন মমতার।
দলের কর্মীদের দাবি, পূর্বস্থলী উত্তর ছাডা়ও গোষ্ঠীকলহের কাঁটা রয়েছে মন্তেশ্বরের মতো আরও কয়েকটি কেন্দ্রে। টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ রয়েছে। দলনেত্রী প্রকাশ্যে কোনও বার্তা দেন কি না,অপেক্ষায় তাঁরাও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)