কখনও অভিযানে যাওয়ার কারণে আবাসনে গিয়ে বিডিও-কে হুমকি, কখনও আবার কারবার নিয়ে দ্বন্দ্বে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের উপরে হামলা— বেআইনি বালি ব্যবসার জন্য অশান্তি বাধছে বারবার। কাঁকসায় অজয়, দামোদর ও কুনুর, তিন নদনদী থেকেই রমরমিয়ে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয়ে কাঁকসা, পাণ্ডবেশ্বর ও লাউদোহা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বালিঘাট রয়েছে। তেমনই দামোদরে অন্ডাল, ডিভিসি ব্যারাজ লাগোয়া এলাকা, গলসির বিভিন্ন জায়গায় বালিঘাট চলছে। তবে কুনুরে কোনও বালিঘাট নেই। অথচ, কাঁকসা ব্লকের নানা জায়গায় তিন নদনদীতেই অবাধে বালি তুলছে কারবারিরা। ‘মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস অ্যাক্ট’ (ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেশন) ১৯৫৭ আইনের ২০১২ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, সরকারি অনুমোদন ছাড়া নদী থেকে বালি তোলা যায় না। অভিযোগ, সেই নিয়ম না মেনে অবৈধ বালির কারবারিরা নানা ঘাট থেকে বালি তুলছে। রাজস্ব ফাঁকি পড়ছে সরকারের।
কাঁকসার শিবপুর, সাতকাহানিয়া প্রভৃতি এলাকায় অজয় থেকে অবাধে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আবার দামোদরের সিলামপুর এলাকাতেও খাদান চালাচ্ছে বালির কারবারিরা। কুনুরও ছাড় পাচ্ছে না তাদের হাত থেকে। সম্প্রতি কুনুর থেকে বালি তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে একটি বেআইনি বালির ট্রাক্টর আটক করেন কাঁকসার বিডিও অরবিন্দ বিশ্বাস। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বালির কারবারি উজ্জ্বল পালের কাছ থেকে। ওই বালির কারবারির পক্ষ নিয়ে বিডিও-কে ফোন করে তদ্বিরের অভিযোগ ওঠে পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য অজয় মজুমদারের বিরুদ্ধে। পর দিন সকালে বিডিও-র আবাসনে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই বালির কারবারি ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। কাঁকসা থানায় বিডিও লিখিত অভিযোগ করেন। উজ্জ্বল পালকে গ্রেফতারও করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বনকাটি এলাকায় আক্রান্ত হন অজয়বাবু। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর অভিযোগ, বালির অবৈধ কারবারের বিরোধিতা করার জন্যই এই হামলা। ঘটনার পিছনে তৃণমূলেরই আর এক নেতার হাত থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক বালির কারবারিকে গ্রেফতার করে। ওই এলাকায় বালিঘাটের দখল নিয়ে এর আগেও তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী বিবাদে জড়িয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ বালির কারবারের পিছনে শাসক দলের স্থানীয় কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে। সে জন্যই কারবারিরা অবাধে বালি তুলনে পারে। তার জেরে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় বলে অভিযোগ। বাছবিচার না করে লাগাতার অভিযান এবং অবৈধ বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, সোমবার রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৪টি লরি ও দু’টি ডাম্পার আটক করে। তবে টানা অভিযান না চালালে পরিস্থিতি পাল্টাবে না, দাবি বাসিন্দাদের।
দলের কিছু স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে বাসিন্দারা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা মেনে নিচ্ছেন তৃণমূলের দুর্গাপুর জেলা সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। দলীয় স্তরেও তদন্ত হচ্ছে। দরকার হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’