E-Paper

বহু টোটোর রেজিস্ট্রেশন বাকি জেলায়

আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায়ের দাবি, ই-রিকশা এবং টোটোর রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ ভাল।

নীলোৎপল রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:১৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

জেলায় ২৫ হাজারের বেশি ই-রিকশা এবং টোটো চলাচল করছে, বছরখানেক আগে পুলিশ-প্রশাসন একটি প্রাথমিক সমীক্ষা করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিবহণ দফতরকে এমনই তথ্য জানিয়েছিল। রাজ্য জুড়ে টোটো এবং ই-রিকশার রেজিস্ট্রেশন চলছে। পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, জেলায় এখনও পর্যন্ত মাত্র এগারোশো টোটো এবং হাজার চারেক ই-রিকশা রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। ফলে, বহু টোটো এবং ই-রিকশার এখনও রেজিস্ট্রেশন বাকি। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই রেজিস্ট্রেশনের সময় রয়েছে।

জেলা পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ই-রিকশা এবং টোটো রেজিস্ট্রেশন করার কাজ চলছে দু’টি ভাগে ভাগ করে, দু’টি অ্যাপের মাধ্যমে। ই-রিকশার ক্ষেত্রে ‘বাহন’ এবং টোটোর (যেগুলি ‘অ্যাসেম্বল’ করে তৈরি হয়েছে সেগুলি টোটো) ক্ষেত্রে ‘টিটিইএন’ (টেম্পোরারি টোটো এনরোলমেন্ট নম্বর) পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করার কাজ চলছে। টোটোর মালিকদের দু’বছরের মধ্যে টোটোর পরিবর্তে ই-রিকশা কিনতে হবে। আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স করা এবং রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলছে। এর পরে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে ‘রুট’ ভাগ করা হবে।

আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায়ের দাবি, ই-রিকশা এবং টোটোর রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ ভাল। কিন্তু সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় এবং রাজ্য সড়কে এই যান চলা বন্ধ না করা হলে,বাস শিল্পের লাভ হবে না। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, এমনকি পূর্ব বর্ধমানেও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে প্রধান রাস্তায় এই যান চলাচল বন্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রায় পনেরো বছর ধরে দাবি জানানো হলেও, পশ্চিম বর্ধমানে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। এই সময়কালে যাত্রীর অভাবে প্রায় অর্ধেক মিনিবাস ও লোকাল বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং আরও কিছু বাস বন্ধের মুখে, দাবি তাঁর।

আইএনটিটিইউসি-র আসানসোল মহকুমা ‘মোটর ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’-এর সাধারণ সম্পাদক রাজু অহলুওয়ালিয়ার দাবি, ‘‘পরিবহণ আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে রুট ছাড়া রেজিস্ট্রেশন হয় না। ই-রিকশা এবং টোটোর ক্ষেত্রে গঙ্গা উল্টো দিকে বইছে। রুট ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। যাঁদের পুরনোগাড়ি আছে, তাঁরা অনলাইনে নিজেরাই করে নিচ্ছেন। নতুন যাঁরা গাড়ি কিনছেন, তাঁদের শো-রুমথেকে রেজিস্ট্রেশন করাতে গিয়ে তিন-চার গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।’’তাঁর আরও দাবি, প্রতিদিন দশ-কুড়িটা করে নতুন ই-রিকশা বিক্রি হচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত ই-রিকশার সংখ্যা কত হবে, বলা মুশকিল। রাজুর অভিযোগ, একাধিক বার পরিবহণ দফতরের কাছে নতুন ই-রিকশা বন্ধ রাখার ব্যবস্থার আবেদন জানানো হলেওফল হয়নি। গরিব ই-রিকশা ওটোটোর চালকদের পাশে দাঁড়াতে পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে তাঁদের কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করানোর পৃথক কাউন্টার খোলার আবেদন জানানো হয়েছিল। পরিবহণ দফতর আশ্বাস দিলেও, তা হয়নি।

আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক মৃন্ময় মজুমদার জানান, শো-রুমের মালিকেরা যাতে সরকার নির্ধারিত টাকায় রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করেন, একাধিক বার সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক শো-রুমের মালিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কেউ বেশি টাকা নিলে অভিযোগ জানানোর আবেদন করা হয়েছে। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Asansol

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy