E-Paper

সুইটিদের ফেরাবে, বলল কেন্দ্র

‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে গত জুনে দিল্লিতে কর্মরত সুনালী, তাঁর নাবালক সন্তান এবং স্বামী দানিশ শেখকে ধরে দিল্লি পুলিশ। পরিচারিকার কাজে যুক্ত সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই নাবালক সন্তানকেও ওই একই বস্তি থেকে ধরা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০৭:৩৬
সুইটি বিবি।

সুইটি বিবি। — ফাইল চিত্র।

নাগরিকত্ব যাচাই না করে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ‘ডিপোর্ট’ করেছিল কেন্দ্র। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে সেই কেন্দ্রই জানাল, বীরভূম থেকে দিল্লিতে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের স্বামী দানিশ শেখ এবং তাঁদের পড়শি সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক সন্তানকে দেশে ফেরাবে তারা। ফেরানোর পরে, নাগরিকত্ব যাচাই করা হবে। সে কথা জেনে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাড়া বাড়ি থেকে ফোনে সুইটি বলেন, ‘‘এগারো মাস পরে দেশে ফিরতে পারব জেনে খুশি হয়েছি। ভীষণ কষ্টে কেটেছে এত দিন। ১০০ দিন জেলও খেটেছি!’’

কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চকে এ দিন জানান, এই ঘটনায় ‘অন্য রকম পরিস্থিতি’ বিচার করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দশ দিনের মধ্যে তাঁদের ভারতে ফেরানো হবে। মেহতা জানান, সংশ্লিষ্টেরা নিজেদের ভারতীয় বলে দাবি করেছেন। এই দাবি যাচাইয়ের উপরে নির্ভর করবে, তাঁরা ভবিষ্যতে ভারতে থাকবেন কি না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শুধু সুনালী খাতুন, সুইটি বিবির পরিবারের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বয়ান নথিবদ্ধ করার পরে, জুলাইয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছে।

কেন্দ্রের এই অবস্থান বদলের পরে প্রশ্ন উঠেছে, আগে নাগরিকত্ব যাচাই না করে কেন কাউকে শুধু সন্দেহের বশে বাংলাদেশে পাঠানো হবে! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার পুলিশ এবং আরপিএফ-কে নির্দেশ দিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে, আদালতে হাজির করানোর দরকার নেই। সরাসরি সীমান্তে পাঠিয়ে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, মত আইনজীবীদের।

‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে গত জুনে দিল্লিতে কর্মরত সুনালী, তাঁর নাবালক সন্তান এবং স্বামী দানিশ শেখকে ধরে দিল্লি পুলিশ। পরিচারিকার কাজে যুক্ত সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই নাবালক সন্তানকেও ওই একই বস্তি থেকে ধরা হয়। তাঁদের অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয় বলে অভিযোগ। বাংলাদেশ পুলিশও অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরে তাঁদের। ১০০ দিন জেলে কাটিয়ে নভেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশের আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন তাঁরা।

গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নাবালক সন্তানকে নিয়ে দেশে ফেরেন অন্তঃসত্ত্বা সুনালী। আসতে দেওয়া হয়নি দানিশ, সুইটিদের। কারণ, তখনও কেন্দ্র বাকিদের ভারতীয় বলে মানেনি। সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের এ ভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হল, প্রশ্ন তুলে এবং সকলকে দেশে ফেরাতে চেয়ে দু’টি পৃথক মামলা করেছিলেন সুনালীর বাবা ভদু শেখ এবং সুইটির মামাতো ভাই আমির খান। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের ফেরানোর নির্দেশ দিলেও, কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে সে মামলাই চলছিল।

সুনালী বলেন, ‘‘তিন সন্তানকে নিয়ে চরম চিন্তায় দিন কেটেছে। সন্তানরা এ বার তাদের বাবার মুখ দেখবে!’’ স্বস্তিতে সুইটির মামাতো ভাই আমির খানও। বলেন, ‘‘প্রায় এক বছর পরে দিদিরা দেশে ফিরবে। ওরা দেশে ফেরার জন্য আকুল হয়ে ছিল।’’

সুইটি এ দিন ফোনে ধন্যবাদ জানান পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে তাঁদের সাহায্যের জন্য যাওয়া মফিজুল শেখকে। সামিরুল বলেন, ‘‘ভারতীয় হিসেবে যাবতীয় নথি থাকলেও, শুধু বাংলায় কথা বলার অপরাধে সুইটিদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। অবশেষে জয় মিলেছে। আশা করব, রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গরিব মানুষকে এ ভাবে হেনস্থা করা হবে না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Government of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy